সোমবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৪

ভালোবাসার বয়স নেই

 - একি! তুমি! এখানে?

- এই দিক দিয়েই যাচ্ছিলাম। দেখলাম তোমার স্কুলের ছাত্র - ছাত্রীরা বেরোচ্ছে, ভাবলাম ম্যাডাম ও নিশ্চয় বেরোবেন, তাই দাঁড়িয়ে গেলাম ।

- বুঝলাম । কিন্তু এইভাবে বাড়ি থেকে বেরিয়েছো? 


- কেন ভুল কি দেখলে? 

- টেম্পারেচার দেখেছো আজ? এতো ঠান্ডায় না গায়ে সোয়েটার আছে, না গলায় মাফলার! ঠান্ডা লেগে জ্বর না বাঁধিয়ে ছাড়বে না দেখছি!

- স্টুডেন্টদের বকতে বকতে ম্যাডাম দেখেছি সবাইকেই আজকাল শাসন করছেন।

- হেসো না তো! এই বয়সে জ্বর বাঁধলে কে দেখবে শুনি?

- কেনো তুমি! দেখবে না?

- দেখতেই তো চেয়েছিলাম সে সুযোগ আর দিলে কোথায়?

- সুমি তুমি তো …......

- হ্যাঁ , জানতাম যে তোমার মা আমাকে কখনোই মেনে নেবেন না। উনি উনার ছেলের সাথে তার ছেলের চেয়ে বেশি বয়সী কোন মেয়ের বিয়ে দিতে চান না। আমি সবটাই জানি অনি।

- কিন্তু....

- কিন্তু কি অনি? আমি জানি তুমি আমাকে নিয়ে আলাদা থাকতে চেয়েছিলে। তুমি আমাকে বলো! উনিও তো তোমার মা। উনারও তো ছেলের প্রতি, ছেলের ভবিষ্যতের প্রতি কিছু প্রত্যাশা থাকতেই পারে। আর আমি তো কখনও আলাদা থাকতে চাই নি। তোমার মায়ের চোখের জলের বিনিময়ে কখনও আমাদের সুখের সংসার চাই নি আমি।

- জানি তো আমি। কিন্তু তোমায় তো বলেছিলাম বিয়ে করে নিতে। একটা নতুন সংসার করতে। বলো বলি নি? কেনো শুধু শুধু জীবনটা এভাবে নষ্ট করছো! 

- শুধু শুধু?

- তা নয় তো কি!

- বিয়েটা তো সামাজিক বন্ধন, নাই বা সেই বন্ধনে বাঁধা পড়লাম আমরা, তাই বলে কি মনের বন্ধনে বাঁধা পড়ি নি বলছো!

- তোমার সাথে তর্কে পারবো না আমি। যদিও কোনোদিনই পারতাম না।

- এমনি এমনি তো আর স্কুল টিচার হই নি! 

- তাও ঠিক।

- চাদর টা গলা দিয়ে জড়াও। একটু পরেই তো কাশবে আবার!

- জো হুকুম ম্যাডাম। 

- এই ঠান্ডায় কিছু না নিয়ে বেরিয়েছে কোনো আক্কেল নেই। বয়সটাই বেড়েছে একটুও বদলাও নি।

- সে তো তুমিও বদলাও নি। আগেও দিদিমণির মত শাসন করতে আজকেও করছো।

- তাড়াতাড়ি চলো বাজে না বকে, একটু পরই আবার কুয়াশা পড়বে। তাড়াতাড়ি চলো।

- হম, চলো। তবে আমাদের বাড়ি।

- তোমার বাড়ি? কিন্তু কেন? আর কাকিমা?

- সারাজীবন যাতে এভাবেই শাসন করতে পারো সেই জন্যই ডাক পড়েছে ।

- মানে? 

- মানে আবার কি? সামনের অগ্রহায়ণেই শুভ কাজ মা সম্পন্ন করতে চান।

- কি বলছো কি! সত্যি?

- হম। 


সুমি অর্থাৎ মৌসুমির অক্ষি যুগল অশ্রুধারায় পরিপূর্ণ হয়ে আসে। অনির্বাণ ও নিজের বক্ষে টেনে নেয় তার সুমিকে। নিজের সর্বশক্তি দিয়ে আঁকড়ে ধরে। আর কোন মতেই সে হারাতে চায় না তার সুমিকে। বহু বছরের অপেক্ষার পর আজকে ওরা এক হতে চলেছে । সুমি ব্যাগ থেকে একটা মাফলার বার করে জড়িয়ে দেয় তার অনির গলায়। তারপর একে অপরের হাতে হাত রেখে এগিয়ে যায়, সুদূর ভবিষ্যতের দিকে। যেখানে আর কেউ তাদের আলাদা করতে পারবে না। ভাঙতে পারবে না তাদের সেই অটুট বন্ধন।

.

.

কলমে - কবিতা

.

.

ছবি :- সংগৃহীত

.

.

#swapnadaria 

#bengaliquote 

#reelschallenge

গল্প রং।। পর্ব ৫১।।

 গল্প রং

পর্বঃ ৫১

লেখক তন্নী তনু 



অতঃপর ইরফাদ সিনথিয়ার হাত নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে ঝড়ের গতিতে দৌড়াতে থাকে।পেছন থেকে বাকিরাও দৌড়ে আসে।মিনিট দশেক লুকোচুরি খেলতে খেলতে একটা বুলেটে থেমে যায় ইরফাদ। বিকট শব্দে রিভলবারের নল থেকে বের হয় ধাতুর বুলেট,পেছন থেকে  বুলেট ছুটে গিয়ে লাগে ইরফাদের পিঠে, থমকে দাঁড়ায় ইরফাদ। রক্ত চক্ষুতে ছলকে ওঠে গরম জল। থেমে গিয়ে ফিরে তাকায় সিনথিয়া। দূরে দাঁড়ানো মুখোশধারীর রিভলভারের নলের দিকে তাকায় সিনথিয়া আরেকবার ইরফাদের সাদা ধবধবে শার্টের পিছনে।এমন দৃশ‍্যে নিজের শ্বাস আটকে যায় সিনথিয়ার.....


 বন্ধ হয় টর্চের আলো। অতঃপর নিস্তব্ধ,বিদঘুটে পরিবেশে নামে প্রগাঢ় নিরবতা...


অন্ধকারাচ্ছন্ন গোলাকার পৃথিবী চোখের সামনে ঘুরে ওঠে, মাথার উপর ধূসর রঙের আকাশটা অশনী সংকেত বাজিয়ে ঘুরে ওঠে সিনথিয়ার, হঠাৎ থমকে যাওয়া হৃদযন্ত্রটা আর্তচিৎকার দিয়ে দূর্বার কম্পনে চলতে শুরু করে, গলায় দলা পাকা আর্তনাদ তীব্র শব্দে বেড়িয়ে আসে সিনথিয়ার কম্পমান গলায়, র*ক্তা*ক্ত শার্টে চোখ রেখে লৌহশক্ত হাতটা আকড়ে ধরে সিনথিয়া। লৌহশক্ত,বলিষ্ঠ শরীরের অধিকারী বলবান শরীরটা ধীরে ধীরে বলহীন হয়ে নুইয়ে পড়ে সিনথিয়ার কাধের উপর। চিৎকার দিয়ে আকাশ বাতাস কাঁপিয়ে ওঠে সিনথিয়া। কম্পমান গলায় বের হয় শব্দ,


--এইইই!!

ঠিক আছেন??


আবারো জ্বলে ওঠে টর্চের আলো, আলোয় উদ্ভাসিত পুরো শালবন। কালো মুখোশধারীরা দলবল নিয়ে সামনে এগিয়ে আসছে ক্রমেই। ঘন আখি পল্লবে উপছে পড়া অশ্রুজলে টুইটম্বুর, ভেতরে জেগে উঠছে বিধ্বংসী রূপ, রক্তশিক্ত চোখ দুটোতে আগুন জ্বলছে সিনথিয়ার। ইরফাদের ঘন মাথাভর্তী চুলের পেছনে কোমল আঙ্গুল চালিয়ে খামছে ধরে সিনথিয়া,  টেনে কপালের কোণে একটা তপ্ত চুমু খায়,নুইয়ে পড়া আস্ত মানুষটাকে আকড়ে ধরে সিনথিয়া, অস্তমীত ঢোলে পড়া রক্তিম সূর্যের মতো তলিয়ে যাওয়া ইরফাদ সিনথিয়ার কাধে মাথা রেখে ধীর গলায় বলে,


-- পালিয়ে যাও সিনথি.....


বিধ্বংসী, অগ্নীমূর্তী ধারণ কারী সিনথিয়া গর্জে উঠে বলে,


-- জান রেখে শরীর নিয়ে পালিয়ে যাওয়া মেয়ে সিনথিয়া ইবনা নয়।


-- ওরা তোমাকে বাঁচতে দিবে না সিনথি!! আমি অনেক বড় ভুল করেছি তোমাকে আমার সাথে জড়িয়ে। একজন এসপি"র জীবন সাধারণ নয়। পদে পদে যুদ্ধ করতে হয় আমাদের। জীবন হাতে নিয়ে খেলতে হয়। আমি তোমার সুন্দর জীবনটা নষ্ট করে দিলাম।


-- আপনি কিসব বলছেন?


-- ওরা দলে ভারী সিনথি....


-- আমি আছি তো... হাতটা ধরুন। 


মুখোশধারী লোকগুলো শয়তানী ভঙ্গিতে হাসছে। শক্তধারী এসপি"র দূর্বল রূপে তারা যুদ্ধজয়ী হাসিতে মেতে উঠছে। সিনথিয়া চুপচাপ ইরফাদের কানে বলছে,


-- হাত ধরুন, পালাবো...


দূর্বল শরীরে চোখ বন্ধ করে দম নেয় ইরফাদ, বহু সংগ্রাম করেই সে একজন এসপি, ঘুরে দাড়ানোর শক্তি তার মধ‍্যে বিদ‍্যমান।নিজের প‍্যান্ট এর পকেটের নতুন রিভলভার একহাতে বের করে বিধ্বংসী হয়ে ঘুরে দাঁড়ায় ইরফাদ, বলিষ্ঠ হাতে আঙুলের খেলায় সামনের মুখোশধারীর কপালে ছোট্ট ফুটো হয়ে বেড়িয়ে যায় সীসার বুলেট, পেছন থেকে ছিটকে ওঠে র*ক্ত।পরপর আরোও দুটো বুলেট। অতঃপর আলোকদ‍্যুতি ছড়ানো টর্চে তাক করে ট্রিগার চাপে ইরফাদ।  শক্ত মুঠিতে সিনথিয়ার হাত নিয়ে দূর্বল গলায় বলে ইরফাদ,


-- রান ফাস্ট...


হাতের মুঠোয় হাত রেখে দুজন দুজনকে বাঁচানোর লক্ষ্যে পুণরায় প্রাণপণে ছুটে আবার। পেছন থেকে হুংকার দিয়ে দৌড়ায় হায়েনার দল। ইরফাদের র*ক্তা*ক্ত পিঠের যন্ত্রণায় শরীর ছেড়ে দিয়ে আসছে, মনের জোর আর ভালোবাসার মানুষের জীবন বাঁচানোর চেষ্টায় সব যন্ত্রণা গিলে দৌড়াতে থাকে ইরফাদ। মাঝে মাঝে আবছা আলোতে পিছু ফিরে দেখে হায়েনার দল কতো দূরত্বে। দূরত্ব বুঝে দম নেয় ইরফাদ, তারপর পুণরায় আবার ছুটে। শুরু হয় গুলিবর্ষণ, ফাঁকা জায়গায় সাইলেন্সার লাগানো গুলিতে তাল সামলাতে পারে না সিনথিয়া।  জীবন মৃত‍্যুর সন্ধিহানে ভালোবাসা আজ অসহায়। ইরফাদ সিনথিয়াকে হাত বাড়িয়ে এগিয়ে দেয়, পেছনে ঢাল হয়ে থাকা ইরফাদ ধীর গলায় বলে,


-- রান সিনথি.... রান...


সিনথিয়া হাত ছাড়ে না, আবার পাশাপাশি হয়। ইরফাদ দম নিয়ে বলে,


--তোমার সঙ্গে যদি না ফিরতে পারি, লকারে পেনড্রাইভটা বাবাকে বলবে রুস্থান কবীরের হাতে তুলে দিতে। সকল প্রুফ ঐখানেই আছে।


-- আল্লাহ্ এতোটা কঠিন আমার সাথে হবেন না।  আমরা একসাথেই ফিরবো ইনশাআল্লাহ।


-- ইমোশোনাল হয়ে যেও না সিনথি.... সিচুয়েশন ক্রিটিক‍্যাল,  বি স্ট্রং যাই হয়ে যাক তুমি বাসায় ফিরবে।


-- আমি আপনাকে নিয়েই ফিরবো।


সারি সারি গাছ-পালা পেরিয়ে আরেকটা শালবনের মধ‍্যে দিয়ে ছুটছে ইরফাদ। ক্ষতস্থানের ব‍্যথায় শ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে বারংবার, পেছন থেকে ছুঁই ছুঁই হায়েনার দল। এলোপাথাড়ি বুলেট ঝড়ে কখন যেনো ঝাঝড়া হয়ে যায় দু"জনের বুক। তবুও প্রাণপণে ছুটছে তারা। শালবন পেরিয়ে ঝোপঝাড়ের দিকে যায় ইরফাদ সিনথিয়া। ক্রমেই ঘন হয়ে আসছে জঙ্গলের পথ। অন্ধকার ঘন জঙ্গল, বড় বড় আকারের গাছ, তাকে পেঁচিয়ে উঠে গেছে লতা জাতীয় উদ্ভীদ, পোকার তীব্র গুঞ্জন কানে এসে লাগছে। পায়ের দাপটে শুকনো মরমরে পাতা ভাঙছে, ভয়াল অন্ধকার রাজ‍্যে শরীর ছমছম করে উঠছে সিনথিয়ার। ঘন জঙ্গলের সরু পথ পেরিয়ে আকাশছোঁয়া বড় গাছটিকে পেঁচিয়ে ঝুপড়ি করা লতানো স্তুপের পেছনে বসে ইরফাদ, দম নেয়, হাতের মুঠোতে থাকা হাতটিকে টেনে পুরো মানুষটাকে বসায় তার দু'পায়ের মাঝে। দু"হাতে টেনে নেয় তার বুকের কোটরে। শক্ত,কঠিন মানুষের বুকের দাপাদাপিতে কান পেতে থাকা সিনথিয়া বলে,


-- খুব কষ্ট হচ্ছে???

বুকের খাঁচায় মিশিয়ে নিয়ে ইরফাদ বলে,


--নাহ...


-- একটা কল দিন অফিসে!! এভাবে কতোক্ষণ লড়বো। আমার খুব ভয় করছে।


-- একটু আগেও তো কি সাহস দেখালে।


--আপনার কিছু হলে আমার রক্ত গরম হয়ে যায়। জানিনা এতো শক্তি কোথা থেকে  পাই।


-- ভালোবাসো?


অন্ধকারাচ্ছন্ন নিরব, নিস্তব্ধ, ভূতুড়ে পরিবেশে বুকের ওম থেকে নিরবে বেরিয়ে ইরফাদের চোখে চোখ রাখে সিনথিয়া। চোখে চোখে কথা হয় অল্প। অতঃপর লজ্জায় ভেসে যাওয়া সিনথিয়া মুখ লুকিয়ে ফেলে আবার।  ভাজ করা হাঁটুর উপর একহাত রেখে অপর পা টানটান করে মেলে ইরফাদ, পায়ের মাঝে অল্প একটু জায়গায় আদুরে বেড়ালের মতো ইরফাদের উষ্ণ ওমে থাকা সিনথিয়া বলে,

-- হুমম...


-- কি হুম?


সিনথিয়া নিরব হয়ে যায়। ইরফাদ গাছে মাথা ঠেকিয়ে আকাশ পানে তাকিয়ে বলে,


-- সময়ের অপেক্ষায় থাকতে নেই।পরে বলবো বলে কিছু ফেলে রাখতে নেই। ভালোবাসার অনুভূতি সব সময় উপভোগ করা উচিত। পরে সময় নাও পেতে পারো।


ধীরে ধীরে মাথা তোলে সিনথিয়া, শূন‍্যে তাকানো ইরফাদের চোখের পানে তাকিয়ে মোহনীয় আবেগ জড়ানো গলায় বলে,-- যতোটা ভালোবাসলে আর ভালোবাসার প্রয়োজন হয়না। আমি আপনাকে ততোখানিই ভালোবাসি। আপনি আমার খুব শখের মানুষ। যা আমি স্বপ্ন দেখতাম, কল্পনা করতাম সেই মানুষটা অনন্তকালের জন‍্যে আমার।


-- একবার তুমি ডাকবে?


-- মানে?

বলেই ছিটকে দূরে সরে যায় সিনথিয়া।ইরফাদ চোখ নামায়, চোখাচোখি হয় দুটি চোখের নয়, হৃদয়ের।


-- বেশী কিছু চেয়ে ফেলেছি?


-- নাহ! আমার আনইজি লাগবে... মুখ থেকে আসবেই না।


-- একটা মাত্র বউ! আপনি ডাকলে তো দূরের মনে হয়। তুমি আমাকে এতো দূরে রাখবে...


--কিন্তু...


পাতার মরমর আওয়াজ কানে বাজতেই ওষ্ঠের মাঝে তর্জনী ছোঁয়ায় ইরফাদ। সিনথিয়া শব্দের দিকে তাল দিয়ে চোখ গোল গোল করে ফেলে। চুপচাপ উঠে দাঁড়ায় ইরফাদ,সিনথিয়া। নিজের পিছনে সিনথিয়াকে দাঁড় করায়। চার্জ কমে যাওয়া লাইটের মৃদু আলো এদিকেই আসছে।ইরফাদ দম ধরে থাকে। ইরফাদের পেছেনে দাঁড়িয়ে র!ক্তাক্ত পিঠে হাত বুলায় সিনথিয়া। আবেগে ভেসে গিয়ে যন্ত্রণার যায়গায় গাঢ় চুমু খায় সিনথিয়া। 


-- আমার ইমম‍্যাচিউর বউ। ব‍্যাথার জায়গায় চুমু খেলে ব‍্যাথা বাড়ে। 


ইরফাদের এমন উত্তরে লজ্জায় পিঠেই মুখ লুকায় সিনথিয়া। নিস্তব্ধ, নিরব পরিবেশে আবার শুরু হয় ভয়াল খেলা।মুখোশধারী এক লোক এদিক ঐদিক টর্চ দিয়ে দেখছে। গাছের এপাশ ঘুরতেই ইরফাদ মুখোমুখি। সময় এক দুই সেকেন্ড। রিভলবারের ভারি বাট দিয়ে বারি দেয় ইরফাদ মাঝ বয়সী লোকটির মাথায়,টর্চটা ঝপ করে পড়ে শুকনো পাতার উপর। চোখ বড় বড় হয়ে ধপাস করে পাতার মধ‍্যে পড়ে লোকটি। পা দিয়ে ইরফাদ পিষে ফেলে টর্চ। বলহীন শরীরে ঢুলতে ঢুলতে সরে যায় ইরফাদ, হাতের মুঠোয় এখনো সিনথিয়া।লম্বা মোটা গাছের আড়ালে বাম পিঠ ঠেকিয়ে দাঁড়ায় ইরফাদ, যন্ত্রণায় মুখ লাল হয়ে আসছে,কান হয়ে উঠছে আগুনের শিখা। ঐ মূহুর্তে  আরও কয়েকজনের উপস্থিতি টের পায় ইরফাদ। সিনথিয়াকে পরিকল্পনা শিখিয়ে পিছিয়ে যায় ইরফাদ। সিনথিয়া পরিকল্পনা  অনুযায়ী শুকনো পাতার উপর হাটে। হায়েনার দল এগিয়ে আসে সেদিকে। পেছন থেকে ঝাপিয়ে পড়ে ইরফাদ, খন্ড যুদ্ধ চলে কিছু মূহুর্ত। ইরফাদ রিভলবভার ঠেকিয়ে তাদের হাতের ধা*রালো ছুরি কেড়ে নেয়। তারপর গমগমে গলায়  বলে,


-- কে পাঠিয়েছে বল। 


-- তোর কাছে যে যে প্রুভ আছে দিয়ে দে। 


-- কার রিভলভারের সামনে দাঁড়িয়ে জানিস!!


-- আমাদের দরকার টাকা। এতো কিছু জানতে চাই নি। প্রুফ গুলো দিয়ে দে। 


মূহুর্ত্তেই  ইরফাদ পর পর তিনবার ট্রিগার চাপে সাইল‍্যান্সার লাগানো রিভলভারে। অন‍্য হাতের ছু*রি*কাঘাতে ক্ষতবিক্ষত করে দেয় মুখোশধারীর বুক। র*ক্ত তীরের মতো ছুটে এসে লাগে  সিনথিয়ার শরীরে। প্রথম বারের মতো সিনথিয়া কেঁপে ওঠে। সিনেমায় বহু র*ক্তার*ক্তি সে দেখেছে। তবে নিজ চোখের সামনে এমন মৃত‍্যুতে কম্পমান হৃদযন্ত্র দাপিয়ে শব্দ করে ওঠে, ভয়ে কুকরে যায় সে। চোখ বন্ধ করে বলে,


-- স্টপ প্লিজ...


মুখোশধারীর বুকের মধ‍্যে ছুঁ!রি গেথে রেখে পা দিয়ে লাথি মারে ইরফাদ। র!ক্তা!ক্ত ছুরিটা ছেলেটির বুক থেকে খুলে আসে আর নিথর দেহটা ধপাস করে পড়ে শুকনো পাতার মধ‍্যে। একবাহুডোরে টেনে নেয় সিনথিয়াকে ইরফাদ। অতঃপর,


-- ভয় পেয়োনা। 


একবাহুডোরে সিনথিয়া অন‍্যহাতে রিভলভার ছু!রি  নিয়ে ওখান থেকে সরে আসে ইরফাদ। জঙ্গলের ঢোকার কারণ একসাথে সবার সাথে মোকাবেলা করা সম্ভব না। আড়ালে থেকে একজন একজন শেষ করতে হবে তাকে। ধীর পায়ে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি ফেলে জঙ্গলের আঁকাবাঁকা পথে হাঁটছে ইরফাদ সিনথিয়া। পেছনের ধেঁয়ে আসা শব্দে চোখ, কান সজাগ করে ইরফাদ। বাহুডোর থেকে এক ধাক্কায় সিনথিয়াকে সরিয়ে দেয় ইরফাদ। পেছনের মুখোশধারী লোকটি তাল সামলাতে না পেরে পড়ে যায় শুকনো পাতার মধ‍্যে। পেছন থেকে সটান করে পিঠে গেঁধে দেয় ছুরি। এভাবেই ভয়াল জঙ্গলে বাড়ে লা*শের সংখ‍্যা।


সিনথিয়াকে বাহুডোরে টেনে নিয়ে দূর্বল শরীর টেনে টেনে হাঁটছে ইরফাদ। ঠিক সে সময় নিঃশব্দে, নিরবে ইরফাদের পিঠে ঠেকায় রিভলবারের নল। পেছন থেকে গুটিকয়েক লোকের গমগমে গলা,


-- হ‍্যান্ডস আপ!


ইরফাদ কৌশলে সেকেন্ডেই পিছন ঘোরে,  কৌশলে কেড়ে নেয় রিভলবার। ট্রিগার চেপে দেয় ইরফাদ। এক দুই তিন। এভাবেই বাড়ে লাশের সংখ্যা। সিনথিয়া তার সাধ‍্যমত সাহায‍্য করে।নিরব, নিস্তব্ধ জঙ্গল ক্রমেই হয় উত্তপ্ত।  দূর্বল শরীরের ইরফাদ সর্বোচ্চ দিয়ে লড়ে। তবে কখনো কখনো ভাগ‍্যের কাছে হেরে যেতে হয়। আকস্মিক পেছনের ধারালো ছু!রি!কাঘাতে আবারও থেমে যায় ইরফাদ, ধারালো আঘাতে সাদা শার্ট ভিজে ওঠে রক্তে। চোখ থেকে গরম  দু"ফোটা জল টুপটুপ করে পড়ে। কঠিন, শক্তখোলসের আবরণে ঢাকা বলিষ্ট শরীর নেতিয়ে পড়ে। প্রথমে হাঁটুভেঙে অতঃপর শরীর ছেড়ে দেয়। সিনথিয়া পেছনের দৃশ‍্যে আতঙ্কে থ হয়ে যায়। স্বপ্নবিলাসী চোখ দুটোতে হৃদয়ের রক্তক্ষরণের চিহ্ন ভেসে ওঠে। হাত পা থেমে যায়।  হৃদয়বিদারক করুণ দৃশ‍্যে ছুটে আসে সিনথিয়া। নিজের শরীরে ঝাপটে ধরে বিশাল শরীরটাকে আগলাবার চেষ্টা করে। তবে ভারী শরীর ঠিকই বিছিয়ে যায় মাটিতে।


-- গাড়িতে তোল দু"টোকেই।


নিঃস্তেজ শরীরে প্রিয় প্রাণকে বাঁচানোর আকুল বার্তা প্রেরণ করে ইরফাদ,


-- আমার সাথে যা ইচ্ছে কর। ওকে ছেড়ে দে...


এহেম কথায় সিনথিয়া ইরফাদকে আরও আষ্টেপৃষ্ঠে ধরে। র!ক্তে ভিজে যাচ্ছে সিনথিয়ার হাত। চোখের অশ্রুধারায় বন‍্যা হবার যোগার। পেছন থেকে হায়েনার দল সিনথিয়ার হাত ধরে টান দেয়। হ‍্যাচকা টানে দু"টি বুক আলাদা যায়। তবে ইরফাদের আধখোলা রক্তশিক্ত চোখ,শক্ত হাতের মুঠোতে সিনথিয়ার কোমল হাত। আধ ভাঙা গলায় ইরফাদ আবারো বলে,


-- ওকে ছেড়ে দে....


আরেকটু শক্ত টানে সিনথিয়া ছাড়িয়ে নিয়ে চায় হায়েনার দলের অধিপতি।তবে দূর্বল শরীরের শক্ত হাতের মুঠো থেকে সিনথিয়াকে আলাদা করতে পারে না। শুকনো মরমরে পাতায় নিস্তেজ ইরফাদকে দেখে সিনথিয়ার ভেতর হু হু করে ওঠে। জ্ঞান হারায় ইরফাদ। ইরফাদের হাতের রিভলভার কেড়ে নেয় সিনথিয়া। বিধ্বংসী সিনথিয়া অগ্নিমূর্তী ধারণ করে তাক করে রিভলভার। মেঘের গর্জনের চেয়েও ভয়াল হুংকার দিয়ে বলে,


--সবাইকে মেরে দিবো..


এমন কথায় হো হো করে হাসে হায়েনার দল। এইটুকু পুচকে মেয়ে রিভলভার দেখে যে নিজেই ভয় পায় সে দেখায় ভয়। রিভলবার তাক করে রেখে পিছিয়ে যায় সিনথিয়া। মাটিতে পড়ে থাকা নিস্তেজ ইরফাদকে একহাত ধরে টেনে ধরে। নিস্তেজ শরীর আরও নেতিয়ে যাচ্ছে। সিনথিয়ার মাথা শূন‍্যে হয়ে যাচ্ছে। ইরফাদের পাশে বসে সে। প‍্যান্টের পকেট থেকে ফোন বের করে বলে,


-- এই ফোনে সব আছে আপনারা নিয়ে নিন। আমাদের ছেড়ে দিন।


ইরফাদের হাতের প্রিন্ট নিয়ে বলে,


-- ফোন ওপেন করে দিচ্ছি চেক দিয়ে নিন।


এক সেকেন্ডের মধ‍্যে ডায়েল লিস্টে যায় সিনথিয়া। জাবিরের নম্বরে ভয়েজ কল অন করে। অতঃপর,


-- আপনারা চেক করুন। প্লিজ। সব এর মধ‍্যে আছে।


অপরদিক থেকে তারা উত্তর দেয়,


--ধুরর! ছেমরি... আমাদের প্রুফ ও চাই, এসপির জীবন ও চাই। কোনো ভাবেই সে জীবিত ফিরবে না। কার কলিজায় হাত দিছে এখন বুঝবে।


কৌশলে ফোনের লোকেশন অন করে সিনথিয়া। ভয়েজ মেইল সেন্ড করেই রূপ পাল্টায়। 


--এখনো সময় আছে প্রুফ টা নিয়ে আমাদের ছেড়ে দিন।


-- প‍্যাঁচাল কম!ঐ তোল ওদের।


সিনথিয়া টুক করে ফোনটা নিজের অন্তরবাসে ঢুকিয়ে নেয়। ইরফাদের মাথায় একহাতে হাত বুলায় সিনথিয়া  অন‍্যহাতে শক্ত করে ধরে রিভলবার। তারপর বলে,


-- মেরে দিবো। আল্লাহ্"র কসম।


শয়তানদের মধ‍্যে একজন এগিয়ে আসে। সিনথিয়া মূহুর্ত্তেই হয়ে ওঠে বিধ্বংসী। রিভলবার তাক করে ট্রিগার চেপে দেয়। বাকিরা হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। অনিশ্চিত, অসম্ভব জিনিসটা চোখের সামনে সম্ভব হতে দেখে থ হয়ে যায় বাকিরা। সিনথিয়া উঠে দাঁড়ায়, ইরফাদের ব‍্যাগ থেকে নতুন রিভলবার বের করে।তারপর বলে,


-- মরতে যদি হয় ই। মেরেই মরবো।


বাকিরা একে অপরের দিকে তাকায়। তারপর বলে,


--মেয়ের দম আছে দেখছি।


আরেকজন বলে,


--এসপির বউ বলে কথা, সাধারণ হবে না এটাই স্বাভাবিক বস। তুলে নেন।


সিনথিয়া রিভলবার টানটান করে ধরে।  মনে মনে ভাবে এই মূহুর্তে উপরওয়ালার সাহায্য ছাড়া তাদের  এইকালের বিচ্ছেদ নিশ্চিত।মন দূর্বল হলেও শক্ত হাতে রুখে দাড়ায় সে। সে জানে সে কেবল সময় নষ্টই করতে পারবে। যেখানে ইরফাদ টিকতে পারেনি। সেখানে সে কয়েক মিনিটও টিকতে পারবে না। তবুও মিরাকল যদি হয়, তবেই ভালোবাসার জন‍্যে আরেকবার পাবে সে ইরফাদকে। তবে জীবনের শেষ রক্ত বিন্দু থাকাকালীন সে লড়বে। বাকিরা তাকে তুচ্ছ করে এগিয়ে আসে। সিনথিয়ার ভেতরটা কেঁপে কেঁপে ওঠে। তবে নিস্তেজ ইরফাদের পানে চেয়ে সে হয়ে ওঠে অগ্নী। কয়েকজন ধেয়ে এসে ইরফাদকে ধরে। টেনে তুলতে চায় নিস্তেজ ভারী শরীর। সিনথিয়া শক্তি সঞ্চয় করে। দম নিয়ে সাইল‍্যন্সার ছাড়া রিভলভারের ট্রিগার চাপে। তবে লক্ষ্যভ্রস্ট হয়। সাথে সাথে একদল এসে চেপে ধরে সিনথিয়ার চোয়াল, ঠেলতে ঠেলতে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয় মাটিতে। তারপর পৈশাচিক দৃষ্টি ফেলে তাকায় তারা। তাদের লোভী চোখদুটো চকচক করে ওঠে। একে ওপরের সাথে আলোচনা করে,

-- মেয়ে যেমন তেজ তেমন সুন্দর। আমরাও এক ঢিলে দুই পাখি পেলাম। সিরিয়াল দে। আমি কিন্তু প্রথম....


এমন বিশ্রী কথায় গা গুলিয়ে আসে সিনথিয়ার।তেজস্রী মাথায় উঠে যায় রক্তে। পুরুষের লোলুপ দৃষ্টি থেকে বাঁচতে যে শিক্ষা সে হাতে কলমে পেয়েছে আজ যদি তার প্রতিফলন না ঘটাতে পারে তাহলে তার অর্জন বৃথা। পাগলা ঘোরার মতো লাফিয়ে ওঠে সিনথিয়া। অতঃপর বুলেটের উত্তপ্ত আগুনে ঝাঝরা করে দেয় পিচাশের বুক। বাকি একজন তেড়ে এসে সিনথিয়ার লম্বা চুল খামছে ধরে। ছু!রি!কাঘাতে ক্ষতবিক্ষত কতে দেয় তার হাতের ডানা। তরপাতে থাকা সিনথিয়া একমূহর্তের জন‍্যে কল্পনায় ভাসে," ইরফাদকে ভালোবাসা হলো না মনে হয় এই জনমে।তাকে আগলে রাখা হলোনা। অশুভ শক্তির কাছে শুভ শক্তি হয়তো এভাবেই হেরে যায়। সত‍্য চাপা পড়ে থাকে মিথ‍্যার আড়ালে।"


হাত পা চালিয়েও পেরে ওঠে না সিনথিয়া। শয়তানের অশুভ শক্তির কাছে পরাজিত সিনথিয়া ইরফাদের দিকে তাকায়। তারপর বলে,"আমি কথা দিয়ে আপনাকে আগলে রাখতে পারলাম না , আপনার উষ্ণ বুকের ওমে আমি শেষ বার ঘুমাতে চাই। ওরা বাঁচতে দিবে না আমাকে। "


ছু!রি!কাঘাতে ক্ষত বিক্ষত হাত,পা, বুক। তপ্ত জ্বলা শরীরে নিয়ে অশুভ শক্তির হাত থেকে ছুটে ঝাপিয়ে পড়ে সিনথিয়া ইরফাদের বুকে। চোখ থেকে বের হয় উষ্ণ তপ্ত জল। হাত পা কাঁপে থরথর করে। কম্পমান হৃদয়, হাত পা নিয়ে ইরফাদের নিস্তেজ বুকে মাথা ঘষে সিনথিয়া। তারপর কান্নারত গলায় বলে,


-- আপনার ভালোবাসা মনে হয় আমার কপালে নেই। আমি আপনাকে পেয়েও পেলাম না । ঠিকই বলেছিলেন,পেয়ে হারানোর যন্ত্রণা অসহনীয়।একবুক হাহাকার নিয়ে, আফসোস নিয়ে যেতে হবে আমি জানতাম না। 


পেছন থেকে হায়েনার দল সিনথিয়ার চুল খামছে ধরে। নিস্তেজ বুকে মাথা ঠেকিয়ে সিনথিয়া সর্বশক্তি দিয়ে আকড়ে ধরে ইরফাদকে। চুল টেনে হিচড়ে সরাতে চায় পিচাশদল। সিনথিয়া একমনে চোখের জলে নিজেকে ভিজিয়ে ফেলে আর ভাঙা গলায় বলে,

-- আমার মৃত‍্যু যদি হয়, তাহলে আপনার বুকেই হোক। পরপারে আপনাকেই যেনো পাই। তার আগ মূহুর্ত পর্যন্ত ভেবে নিবো আপনার বুকে ঘুমাচ্ছিলাম।


মাথার চুলে টান পড়ে আবার, আরোও শক্ত করে আকড়ে ধরে সিনথিয়া ইরফাদকে। পিচাশদলের একজন বলে,


--আরে মরলো নাকি!


--মরে নাই!তেজি মাইয়ার তেজ থামা। কা!প!ড় খো!ল ওর তাইলে তেজ থামবো।


এতো ভারী কথাটাও মুখ বুঝে সহ‍্য করে সিনথিয়া। পিচাশেরা নিস্তেজ ইরফাদের হাত টেনে ধরে। আরো দু"জন টেনে ধরে সিনথিয়ার চুলের মুঠি। টানতে টানতে ছ‍্যাচড়ে দূরে নিয়ে যায় সিনথিয়াকে। ইরফাদের হাত নির্মম, নির্দয়ভাবে টেনে হিচড়ে নিয়ে যায়।সিনথিয়া চিৎকার দিয়ে ওঠে,

--ওকে ওভাবে ধরো না,ও ব‍্যাথা পাচ্ছে,আমার হৃদয় ছিড়ে যাচ্ছে।

 কি চাও তোমরা। ওকে ব‍্যাথা দিও না প্লিজ।


হৃদয়ের অনুভূতির দাম কি শয়তানের কাছে থাকে। তারা তো কেবল তাদের স্বার্থের দিকেই তাকায়। সিনথিয়া র!ক্তা!ক্ত  যন্ত্রণাময় হাত দাপিয়ে বেড়ায়। পা ছোটাছুটি করে। অতঃপর মাংসাশী বাঘের মতো ক্ষেপে যায় সিনথিয়া। কামড়ে ধরে পিচাশের হাত। র!ক্তা!ক্ত করে দেয় মূহুর্ত্তেই। তাদের দলের একজন গর্জে উঠে বলে,


--মা*** তেজ কমা। জা!মা ছেড়।


সিনথিয়া দু"হাত নিজের শরীরের উপর রেখে জুবুদুবু হয়ে বসে। একজন ইরফাদের বুকে রিভলভার ঠেকায়। অতঃপর পিচাশ দল বলে,


--খোল! 


দুনিয়ার খেলায় মত্ব পিচাশদের দিকে অশ্রুসজল নয়নে তাকায় সিনথিয়া। এই নিরব, নিস্তব্ধ জঙ্গলে তার ভালোবাসার মানুষকে জিম্মি করে তার  শরীর হরণ করার খেলায় মাতোয়ারা জানোয়ারদের উপর    এই মূহুর্তে যদি আকাশ ফেঁড়ে আগুন নিক্ষেপ করা হতো তবেই সিনথিয়ার আত্মা শান্ত হতো। পিচাশদলের একজন সিনথিয়ার পাশ দিয়ে গোল গোল হয়ে ঘুরছে। জুবুথুবু সিনথিয়ার কাঁপছে ওষ্ঠাধর। চোখ হয়ে উঠছে রক্তলাল। তপ্ত জলের পরিবর্তে যেনো গড়িয়ে পড়ছে ক্ষরণকৃত হৃদয়াশ্রু, লাল টকটকে র!ক্ত । দু"জন হায়েনা জানোয়ারের মতো খামছে ছিড়ে নেয় সিনথিয়ার জামার অংশ। ইরফাদের বুকের উপর ঠেকানো রিভলভারের দিকে তাকিয়ে ফুপিয়ে ওঠে সিনথিয়া। পিচাশদলের হাতের ছোবলে ছিড়ে ছিড়ে উঠে যায় পিঠের অংশ। ওড়নাটাও টেনে হিচড়ে নিয়ে উড়িয়ে দেয় একজন। পৈচাশিক হাসিতে এগিয়ে আসে লম্বা, বিশালদেহীর একটা ছেলে। পা দিয়ে লাথি দেয় সিনথিয়ার বুকে। শুকনো পাতার উপর ছুড়ে ফেলে সিনথিয়াকে অতঃপর.....


নিস্তেজ, জ্ঞানহীন ইরফাদ শরীর ছেড়ে দিয়ে আছে মরমরে পাতার বিছানায়। একজন সুপুরুষের কাছে মেয়েরা যেমন নিরাপদ,কাপুরুষের কাছে মেয়েরা ততোটাই হুমকির মুখে। এই মূহুর্তে তার ছায়াতলের মানুষটির জীবন জানোয়ারদের কবলে সে জানতেও পারছে না। সিনথিয়া কাঁপতে কাঁপতে বলে,


-- আমার খুব অসহায় লাগছে ইরফাদ! আমার খুব ভয় করছে। মেয়েরা কেনো এতো অসহায়! কেনো কেনো? ওদের বলো আমাকে মেরে ফেলুক। তবুও এমন কিছু না হোক .....


কিন্তু সে শব্দ কেউ শুনতে পায় না। তেজস্রী মেয়ের দূর্বল রূপে হায়েনার দল মজা পায়। মুখোশধারীর দের একজন খুলে ফেলে মুখের মাস্ক। সিনথিয়ার সমস্ত শরীরের গন্ধ শুকতে থাকে ছেলেটা। সিনথিয়া চোখ বন্ধ করে ফেলে ঘৃণায়। পরিহিত জামার উপরের অংশ টেনে ধরে এক জানোয়ার। সিনথিয়া হাত খামছে ধরতেই বলে,


--গুলি চালাবে নাকি তুই চুপচাপ থাকবি।


অদৃশ‍্য শেকলে বেঁধে যায় সিনথিয়া। দুচোখ বেয়ে গড়িয়ে পড়ে জল। জানোয়ারের অশুভ ওষ্ঠ সিনথিয়ার গ্রীবার দিকে যায়। 


ঠিক সে সময়ে শুভ সংকেতের বার্তা নিয়ে বেজে ওঠে সাইরেন। পুলিশের গাড়ির শব্দ ভেসে আসে। উপর থেকে উঠে যায় জানোয়ারটা। সাইরেনের শব্দে কান পেতে থাকে সবাই। এই সুযোগে সেকেন্ডের মধ‍্যে উঠে দাঁড়ায় সিনথিয়া। পাশে থেকে একজনের হাত থেকে রিভলভার কেড়ে নিয়ে সোজা ট্রিগার চাপে। ইরফাদের উপর ধরে থাকা রিভলবার রাখা লোকটির বুক ঝাঝরা করে দেয় সিনথিয়া। অতঃপর আকাশের দিকে তাক করে দু"বার ট্রিগার চাপে সিনথিয়া। তীব্র শব্দে কেঁপে ওঠে আকাশ বাতাশ। ঠিক সে সময়ে মাইকে শোনা যায় পুলিশ ফোর্সের গলা,


-- আমাদের টিম জঙ্গলের দিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। যতোই পালানোর চেষ্টা করুন, ধরা পড়তেই হবে। না হলে এনকাউন্টারে শেষ হয়ে যাবে অপরাধিরা।বি এলার্ট..


বাকিরা সবাই যে যার মতো ছুটে পালিয়ে যায়। সিনথিয়া সস্তির শ্বাস ফেলে, দুচোখের অশ্রুতে ভিজে ওঠে তার সমস্ত বুক। নিস্তেজ শরীরে পড়ে থাকা আস্ত ভালোবাসা টুকুকে ঝাপটে ধরে সিনথিয়া। হৃদয়ের ব‍্যাথায় জরাজীর্ণ সিনথিয়া নিস্তেজ ইরফাদের বুকে কান পেতে থাকে।হৃদয়ের অল্প একটু স্পন্দন শোনার তীব্র আশায় দু"চোখের জল বাঁধ ভেঙ্গে পড়ে, কোলে তুলে নেয় ইরফাদের ঘন চুল ভর্তী মাথা। রক্তাক্ত ব‍্যাথারত শরীরে কান্নারত সিনথিয়া লম্বা শ্বাস টেনে নিয়ে বলে,


-- কথা বলো। ঠিক আছো তুমি।

এইই!!! কথা বলোনা।

 তুমি না থাকলে বেঁচে থাকা হবে না আমার। কথা বলো। জীবনে হৃদয় ভাঙতে ভাঙতে আমি শেষ প্রান্তে এসে তোমাকে পেয়েছি।ভাঙা হৃদয়টা কেবল জুড়ে যাচ্ছিলো।  তোমার কিছু হলে তো আমার মেরুদন্ডে ভেঙ্গে যাবে। আমি আর উঠে দাঁড়াতে পারবো না। কথা বলো....


পাগলের মতো সিনথিয়া তরপাতে থাকে। চোখের জলে ভিজতে ভিজতে সিনথিয়া নিস্তেজ মুখে অজস্র চুমু খায়। হাত পা দাপাতে দাপাতে বলে,


-- আল্লাহ্! এতো কঠিন আমার সাথে হতে পারেনা। আমাকে এতো কষ্ট দিতে পারে না। তোমার কিছু হওয়ার আগে আমি পৃথিবী ছাড়তে চাই। এতো কঠিন যন্ত্রণা আমার ছোট্ট হৃদয় বয়ে বেড়াতে পারবে না। কথা বলো। তোমার স্বর শোনার তৃষ্ণায় আমি পাগল হয়ে যাচ্ছি। 


ইরফাদের হাতটা নিজের হাতের মুঠোয় ঘষতে থাকে। ঠান্ডা হয়ে আসা হাতটা বুকে ঠেকিয়ে বলে,


--হাতটা কেনো ঠান্ডা হয়ে আসছে। কথা বলো। আমি আর সহ‍্য করতে পারছি না ইরফাদ। একটু তাকাও। তাকাও না। 


ভারী শরীরটাকে টেনে নিজের উপর নেয় সিনথিয়া।   ঠান্ডা হয়ে আসা চোখ মুখে এলোমেলো ভাবে চুমু খায়। বুকে চেপে রেখে বলে,


-- অনেক কষ্ট হচ্ছে আমার,  ভিষণ অসহায় লাগছে ভিষণ....


অশুভ উপাখ‍্যানের দরজা ঠেলে শুভশক্তিরা এগিয়ে আসে। পুলিশ ফোর্স আলো নিয়ে আসে সেখানে। সিনথিয়ার আধছেড়া জামা, র!ক্তা!ক্ত শরীর, অশ্রুশিক্ত চোখে তাকায় ফোর্সের দিকে। চরচড়ে ঠোঁটটা ভিজিয়ে নেয়। ইরফাদকে কোলে রেখে হাতটা বুকে চেপে ধরে সিনথিয়া। পুলিশ ফোর্স এর একজন হাত বাড়িয়ে দিয়ে  বলেন,


-- স‍্যারের সেন্স নেই? আপনারও তো বিধ্বস্ত  অবস্থা ম‍্যাডাম। কোথায় কোথায় লেগেছে। উঠে আসুন।


সিনথিয়া ইরফাদের ঠান্ডা বলিষ্ঠ হাতের উল্টো পিঠে চুমু খায়,চোখ ফেটে গড়িয়ে পড়ে জল, জড়িয়ে আসা স্বরে বলে,


-- আমাকে না আগে ওকে তুলুন। ওর ব‍্যথার যন্ত্রণায় আমার হৃদয় জ্বলে যাচ্ছে। 


চলবে??

৫০তম পর্ব পড়ার জন্য এইখানে ক্লিক করুন।

রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০২৪

রোজ ৫০টি চ’ড়-থা’প্পড়েই বাড়বে নারীদের সৌন্দর্য! জেনে নিন কীভাবে

 নিজেকে সুন্দর করতে কে না চায়? সে পোশাকের দিক থেকে হোক বা ত্বকের সৌন্দর্যের দিক থেকে। সবাই চায় তাকে দেখতে সুন্দর লাগুক। আমরা প্রত্যেকেই বাড়িতে নানান রকম টোটকা ব্যবহার করি যার সাহায্যে আমরা সুন্দর হতে পারি। সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য নানা রকম উপায়ের কথা শোনা যায়। ক্রিম, লোশন, ফেসিয়াল, লেজার থেরাপি – বাজারে এখন নানা রকম ‘সৌন্দর্যবর্ধক’ পণ্য ও থেরাপির সমাহার। তবে খুব সহজ একটি উপায়ে আপনি হতে পাারেন সুন্দর, জেনে নিন কীভাবে।


 সৌন্দর্য বাড়ানোর এক অদ্ভুত এবং অতি কার্যকর পদ্ধতি হচ্ছে থাপ্পড় থেরাপি। হ্যাঁ ঠিকই শুনছেন। সৌন্দর্য বাড়ানোর জন্য থাপ্পড় থেরাপির মতো এই অদ্ভুত থেরাপি প্রচলিত রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ায়, যেটি সেখানকার বেশ জনপ্রিয় থেরাপি। দক্ষিণ কোরিয়ার নারীরা শত শত বছর ধরে থাপ্পড় থেরাপি ব্যবহার করে আসছেন।

এই থেরাপি অনুযায়ী, প্রতিদিন নিজেকে ৫০ বার করে গালে আলতো থাপ্পড় মারতে হবে। দাবি করা হয়, এতে ত্বকের রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায় এবং ত্বক আরও উজ্জ্বল ও মসৃণ হয়।

শতাব্দী ধরে দক্ষিণ কোরিয়ার নারীরা এই থেরাপি ব্যবহার করে আসছেন। নিয়মিত থাপ্পড় মারার ফলে তাদের ত্বক নাকি উজ্জ্বল ও টানটান থাকে। তবে মনে রাখবেন, ‘কেউ নিজেকে খুব জোরে জোরে থাপ্পড় মারবে বিষয়টা এমন নয়। থেরাপি হিসেবে নিজেকে গালে আলতো থাপ্পড় মারতে হবে। এতে আপনার ত্বকের রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পাবে। এবং আপনার ত্বক আরও সুন্দর এবং চকচকে হবে।


কোরিয়ান নারীরা ছোট থেকেই এ থেরাপি ব্যবহার করা শুরু করেন। যে কারণে বড় হতে হতে তাদের ত্বক অনেকটাই উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।’

দেওলিয়া হয়ে গেলে ৪ ব্যাংক, টাকা তুলতে পারছেন না গ্রাহকরা


বেসরকারি খাতের চারটি ব্যাংক থেকে মেয়াদপূর্তির পরও আমানতের অর্থ তুলতে পারছে না ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন। এই সিটি করপোরেশনের প্রায় ২৯ কোটি টাকা আটকে গেছে। যদিও কিছু আমানত উত্তোলনের জন্য পে-অর্ডার পেলেও নগদায়ন করতে পারেনি। সাম্প্রতি আমানতের টাকা ফেরত না পেয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর বরাবর চিঠি দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। যদিও এখন পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে কোনো ধরনের নির্দেশনা দেয়া হয়নি বলে ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে।

ব্যাংকগুলো হলোÑগ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক ও বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক। এতদিন এসব ব্যাংক বিতর্কিত ব্যবসায়ী গোষ্ঠী এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে ছিল। এসব ব্যাংক থেকে নামে-বেনামে হাজার হাজার কোটি টাকা বের করেন নেয় গ্রুপটি। তবে শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর আন্তর্বর্তীকালীন সরকার ব্যাংক খাত সংস্কারের উদ্যোগ নেয়। প্রথমে এসব ব্যাংকে চলতি হিসাব ঘাটতি থাকার পরও লেনদেন করার যে সুযোগ দেয়া হয়, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার তা বন্ধ করেন। এতে ব্যাংকগুলোর বাস্তব চিত্র বের হয়ে আসে। ফলে ব্যাংকগুলো তীব্র তারল্য সংকট ভুগছে। যদিও এর মধ্যে গ্যারান্টির আওতায় কিছু ব্যাংকে আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজার থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তারল্য সহায়তার ব্যবস্থা করে দিচ্ছে, তবুও সংকট কাটিয়ে উঠতে পারছে না।

তথ্য অনুযায়ী, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের দুটি শাখায় চার কোটি টাকা এফডিআরের টাকা উত্তোলনের জন্য গত ১০ জুলাই আবেদন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এসব প্রতিষ্ঠানটি প্রায় দুই মাসের মধ্যে পে-অর্ডার পেলেও এখন পর্যন্ত ক্যাশ টাকা হাতে পায়নি। গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের পান্থপথ মহিলা শাখায় তিন কোটি টাকা ও উত্তরা শাখায় এক কোটি টাকার আমানতের টাকা তুলতে পারছে না প্রতিষ্ঠানটি। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের চিঠিতে বলা হয়, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্ধারিত সীমার মধ্যে থেকে বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে আমানত রেখেছে। এর মধ্যে দুটি ব্যাংক থেকে আমানতের মেয়াদপূর্তিতে পে-অর্ডার পাওয়া গেলেও নগদায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া অন্য দুটি ব্যাংকের কাছে আমানতের মেয়াদপূর্তিতে নগদায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোয় পত্র প্রেরণ ও বারবার যোগাযোগের পরও অদ্যাবধি পে-অর্ডার পাওয়া যায়নি।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মীর খায়রুল আলম বলেন, ‘আমাদের নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে, যেসব ব্যাংকে লাভ বেশি, সেসব ব্যাংকে টাকা রাখার। তাই আমরা ওই ব্যাংকগুলো থেকে টাকা তুলে সরকারি ব্যাংকে রাখব। ব্যাংকগুলো থেকে টাকা তুলতে না পেরে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বরাবর চিঠি দিয়েছি। তবে এখনও চিঠির জবাব পাইনি। চিঠিতে যে টাকার পরিমাণ উল্লেখ করা আছে, ওই ব্যাংকগুলোয় সেই পরিমাণ টাকাই রাখা আছে।’ চিঠিতে দেখা যায়, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের মোহাম্মদপূর শাখায় উত্তর সিটি করপোরেশনের ফিক্সড ডিপোজিট ছিল ১০ কোটি টাকা। ডিপোজিটের মেয়াদপূর্তি হলে গত ১০ জুলাই টাকা উত্তোলনের জন্য আবেদন করা হয়। এই ব্যাংক থেকেও পে-অর্ডার পেলেও নগদায়ন করতে পারেননি।
এছাড়া ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের বিশ্বরোড শাখায় দুটি এফডিআর ছিল ১০ কোটি টাকার। এই ব্যাংকটি এখন পর্যন্ত গ্রাহককে পে-অর্ডার দেয়নি।

একইসঙ্গে বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের প্রগতী সরণি শাখায় ডিপোজিট ছিল পাঁচ কোটি টাকা। গত ১৯ সেপ্টেম্বর আবেদন করে এখন পর্যন্ত পে-অর্ডার পায়নি। ঋণ জালিয়াতি ও নানা অনিয়মের কারণে দুই বছর যাবৎ তীব্র তারল্য সংকটে রয়েছে দেশের প্রায় ১২টি ব্যাংক। এর মধ্যে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার আমলে এস আলমের নিয়ন্ত্রণে ছিল আটটি ব্যাংক। এস আলমের নিয়ন্ত্রণে থাকা ব্যাংকগুলোয় শেখ হাসিনার পতনের পর তারল্য সংকট আরও প্রকট হয়েছে। কারণ ব্যাংকগুলোয় কী পরিমাণ জাল-জালিয়াতি হয়েছে, তার বেশকিছু চিত্র বেরিয়ে এসেছে। এতে গ্রাহকদের মধ্যে ব্যাংকগুলো নিয়ে আত্মবিশ্বাস কমে যাওয়া গ্রাহকরা আমানত তুলতে শুরু করেছেন। নতুন করে আমানত না হওয়ার কারণে ব্যাংকগুলো সংকট কাটিয়ে উঠতে পারছে না।
যদিও এরই মধ্যে দুর্বল হয়ে পড়া ব্যাংকগুলোকে তারল্য গ্যারান্টি দিতে হচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে। এখন পর্যন্ত সাতটি ব্যাংক প্রথম এক মাসে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গ্যারান্টি পেয়েছে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।

তথ্য বলছে, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটিড পেয়েছে এক হাজার ৪৯৫ কোটি টাকা, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক এক হাজার কোটি টাকা, গ্লোবাল ইসলামী ২৯৫ কোটি টাকা, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক ৭৭৫ কোটি, ইউনিয়ন ব্যাংক ১৫০ কোটি ও ন্যাশনাল ব্যাংক ৮২০ কোটি টাকা পেয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, বেসরকারি ৯টি ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে থাকা কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ঘাটতিতে পড়েছে প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকা।

গল্প রং ৫০ তম পর্ব লেখিকা তন্নী তনু।

 গল্প রং

৫০ তম পর্ব 

লেখিকা তন্নী তনু।


সিনথিয়ার সবটা গুলিয়ে আসছে। ভিষণ এলোমেলো লাগছে। কফির মগ এগিয়ে দেয় সিনথিয়া। সাথে সাথে বলিষ্ঠ হাতে মুঠিতে বন্ধি হয় তার হাত। ইরফাদ কফির মগ অন‍্যহাতে নিয়ে শক্ত করে ধরে সিনথিয়ার হাত। উঠে আসে ধীরে ধীরে। সিনথিয়ার কপালের চুলগুলো একহাতে সরিয়ে দেয় ইরফাদ। সিনথিয়া পালাতে চায়। তার আগেই ইরফাদ বলিষ্ঠ আঙ্গুলে চেপে ধরে সিনথিয়ার গাল। একহাতে তিক্ত কফির মগে প্রগাঢ় চুমুক দেয় ইরফাদ। অতঃপর তিক্ত ওষ্ঠাধর নিয়ে মিষ্টির খোঁজে ডুব দেয় সিনথিয়ার অধরে........


ফোনের রিং টোনের ভেসে আসা মৃদু শব্দে বন্ধ হওয়া ঘন আখি পল্লব ছুটে যায় সিনথিয়ার, ছিটকে দূরে সরে যায় সে।নিজেকে লুকাতেই পিছু ফিরে বাইরে বেরিয়ে যাওয়ার জন‍্য ছুট দেয় ।সহসাই তার কোমল হাত বাঁধা পড়ে বলিষ্ঠ হাতের বাঁধনে। কফি মগটা রেখে রকিং চেয়ার থেকে ফোন তুলে নেয় ইরফাদ,অন‍্যহাতে তুলতুলে বেড়াল ছানার পিঠ মিশিয়ে নেয় নিজের লৌহকঠিন বুকে। অমোঘ প্রেমের আহবানে বন্ধ হয়ে যায় সিনথিয়ার ঘন কালো আখিপল্লব,লৌহশক্ত বুকের কোমল,সিগ্ধ, উষ্ণ ওমে নিজের শরীর ছেড়ে দেয় সে,লাল টকটকে ধোঁয়া ওঠা কানের লতিতে নেমে আসে বরফ শীতল ওষ্ঠ,


-- ডিসট‍্যান্স কমাতে বলে পালাতে চাইছো কেনো?


সমুদ্রের স্রোতের মতো ভেসে আসা ফিসফিস  শীতল স্বরে জমে যাচ্ছে সিনথিয়া। শরীর এলিয়ে দিচ্ছে আরোও।অপরহাতে  ফোন কানে তুলে নেয় ইরফাদ,তার মুখটা এখনো সিনথিয়ার কাঁধের উপরেই। সিনথিয়া ধীর গলায় বলে,


--ছাড়ুন।


ইরফাদের ফিসফিস করা স্বর,


--ডোন্ট সাউন্ড।

 মূহুর্তেই গলার স্বরে আমূল পরিবর্তন,


-- আসসালামু আলাইকুম স‍্যার!


সিনথিয়া হাফ ছাড়ে। চোখ বন্ধ করে লম্বা শ্বাস টেনে নেয়।সালামের উত্তর নিয়ে রুস্থান কবির বলেন,


-- ইরফাদ!


-- স‍্যার বলুন!

-- একোরডিং টু ইউর কমান্ডস, সালমান সারাফি হ‍্যাজ ফুলফিলড হিজ অল ডিউটিস।  প্রভাতরঞ্জন সরকারের সকল প্রপার্টি,ব‍্যাংক ব‍্যালেন্স এর সকল তথ‍্য কালেক্ট করেছেন। সব প্রুফ রেডি। ক্রিকেট বোর্ডের সাথে জড়িত সকলকেই ইতিমধ্যে থানায় আনা হয়েছে।আজ রাতে তো ফাইনাল খেলা। আশা করছি ক্রিকেট টিম দেশের জন‍্যেই খেলবে। তবে যে জন‍্যে তোমাকে কল দেয়া। কাল সকালে প্রেশ মিডিয়ার সামনে সব এক্সপোজ করবে তুমি। 


-- ওকে স‍্যার।


-- আর একটু সাবধানে চলাফেরা করো। যে লোক ঠান্ডা মাথায় এতো বছর ধরে ক্রাইম করে আসছে। সে অবশ‍্যেই এতো সহজে হার মানবে না। ডিআইজি জেলে থাকলেও, তার হাত লম্বা। তোমার উপর এট‍্যাক হতে পারে। 


--ডোন্ট ওয়ারী! আমি আছি স‍্যার নিজের জন‍্য।


-- ডিআইজি প্রভাতরঞ্জন যে খেলা খেলেছেন। তিনি চাইলে তোমাকে রাস্তা থেকে সরিয়ে দিতেও পারতেন। তবে আল্লাহ্ সহায় ছিলেন এবং তোমার তীক্ষ্ম বুদ্ধির জোরে সবসময় ই তুমি নিজেকে রক্ষা করে গেছো। ইউ আর ওভারটেক ইউর সেলভ ডে বাই ডে। আ"ম প্লিজড ফর ইউ। সত‍্যিই তুমি মাস্টার পিছ ইরফাদ...


--স‍্যার! এভাবে বলে আমাকে লজ্জায় ফেলবেন না প্লিজ। আমার বাবা ছোট্ট থেকে একটা কথা বলতেন," আমি চাই আমার সন্তান প্রথমত একজন মানুষ হোক।" আমি শুধু ঐটুকুই হতে চেয়েছি, এখনো চেষ্টা করছি করবো মৃত‍্যুর আগ মূহুর্ত অবধি।


-- আল্লাহ্,ব্লেস ইউ মাই বয়!


_______


ইরফাদের বাঁধনে চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে সিনথিয়া।কথা শেষ করে ফোন রকিং চেয়ারে রাখে ইরফাদ।  চাপ দাড়িতে ঢাকা আকর্ষণীয়, মোহনীয় গাল ও চিবুক টুকু সিনথিয়ার কাঁধে ঠেকায় ইরফাদ,প্রথম বারের মতো অচেনা, অজানা, নতুন অনুভূতির স্পর্শে শক্ত হয়ে দাঁড়ায় সিনথিয়া,কাঁধের ফাকা অংশে পুরুষালী দাঁড়ির ধাঁরালো ছোঁয়ায় শিউরে শিউরে ওঠে সে। বলিষ্ঠ হাতে কোমল হাতদুটোকে হাতের মুঠোতে নিয়ে উদরে চেপে কানে ফিসফিসিয়ে বলে,


-- প্রশ্নের উত্তর পাইনি....


নতুন স্পর্শে, নতুন গন্ধে ভাসতে থাকা সিনথিয়া ধীর গলায় বলে,


--কি?


-- দূরত্ব কমাতে বলে কেনো পালাচ্ছো..


আধখোলা চোখজোড়া লজ্জায় নুইয়ে পড়া লজ্জাবতী গাছের মতো নুইয়ে যায়। নতুন স্পর্শের বাঁধন থেকে নিজেকে ছুটাবার ব‍্যথা চেষ্টা করে বলে,


-- আমি শুধু পাশাপাশি ঘুমাতে চেয়েছি...এইটুকু দূরত্ব কমালেই হবে....


--  আমার কল্পনাবিলাশী, আবেগঘন মনের অধিকারীনী,বাস্তব জ্ঞানহীন, ইমম‍্যাচিউর বউ কি কখনো বুঝবে একসাথে, একঘরে, এক বিছানায় থেকে ডিসট‍্যান্স মেইনটেইন করা তার ম‍্যাচিউর বরের জন‍্য যুদ্ধের সমান!!!


আবছা আলোয় ডুবে থাকা নিস্তব্ধ নিরব পরিবেশে সিনথিয়ার হৃদযন্ত্রের কাঁপন পাল্লা দিয়ে বাড়ে, কোমল ভালোবাসার বন্ধনের জালে বাঁধা পেয়ে ডুবতে থাকে সিনথিয়া, মনের সাথে তলিয়ে ভাবে সে," একারণেই দোলনা তে ঘুমাতে বলেছিলো রাতে।" সিনথিয়া চুপচাপ বলে,


-- আজ থেকে তাহলে দোলনাতেই ঘুমাবো। 


ইরফাদ হালকা করে প্রসস্ত করে ওষ্ঠজোড়া,

"আমার উপস্থিতিতে তোমার রাজ‍্যে নামবে প্রগাঢ় ঘুম, আর তোমার উপস্থিতিতে আমার নির্ঘুম রাত সর্বোচ্চ দীর্ঘ হবে।"


--আমার জন‍্যে কি আপনার ঘুমের প্রবলেম হচ্ছে? আমি তো বললাম বিছানায় ঘুমাবো না আর। 


--গাঁধা কোথাকার!

সিনথিয়া চোখ গোল গোল করে তাকায়। আপন মনে ভাবতে থাকে কি হলো?

ফোনের রিং টোনের মৃদু শব্দে আবারও ছেদ ঘটে কথোপকথনের। ইরফাদ সিনথিয়াকে ছেড়ে ফোনটা কানে তুলে নেয়। সিনথিয়া চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকে। মনে মনে ভাবে, "ইরফাদ কি রাগ করলো?" 


--কিরে! অনেক দিন পর?

-- নম্বর সেইভ করা?

-- হুম! 

-- ভাগ‍্যিস এই তুচ্ছ "সুভা" তোমার কনট্রাক্ট লিষ্টে থাকে। 

-- থাকাটাই তো নরমাল।

--ভালো আছো?

-- হুম! মন খারাপ কেনো? এনিথিং সিরিয়াস?


-- তুমি কি করে বোঝ বলোতো? কেউ তো এভাবে বোঝে না। 


-- এমন কিছু না। প্রফেশনালী অভ‍্যস্ত তাই অনেক সময় বুঝতে পারি। আংকেল কেমন আছেন?


--ভালো।


ইরফাদ উঠে যায় বেলকনির দিকে। সিনথিয়া ওভাবেই দাঁড়িয়ে থাকে। 


--কি হয়েছে তাই বল।


সুভার মনটা ভার। গলা থেকে কথা বের হচ্ছে না। হাতে টাকা পয়সা নেই। ধার করে নেয়া হয়েছে বাবার ঔষধ, সবচেয়ে প্রিয় রিং বিক্রির টাকায় কোন রকমে শুরু হয়েছে ভাইয়ের চিকিৎসা। তবে এইবার দম ফুরিয়ে আসছে,গলায় ঠেকে আছে কান্নার ভারী দলা, তীক্ত অনুভূতিতে বুজে আছে গলা, শুধু কাঁদতে পারছে না। চড়চড়ে ঠোঁটটা ভিজিয়ে নেয় সুভা, শূন‍্যে তাকিয়ে মানসম্মানের সীমা পেড়িয়ে বলে,


-- কিছু টাকা দিতে পারবে?


এতোক্ষণের আটকে রাখা কান্নার ভারী দলাটা ভেঙে ঝুরঝুরে বালির মতো পড়ে, ওষ্ঠজোড়া হয় লাল টকটকে, কান থেকে ধোয়া ওঠে অনবরত,বুকের মধ‍্যে  ছাঁই চাপা দেয়া আগুন দাউদাউ করে জ্বলে ওঠে,হসপিটালের কড়িডোরে দাঁড়িয়ে সুভা হাত কামড়ে ধরে ঠেকায় কান্নার আওয়াজ। ইরফাদ ধীর গলায় বলে,


--কি হয়েছে বল......!


সুভা সাদা ছাদের দিকে মুখ করে কান্না গিলে ফেলে, চোখ দুটো মুছে বলে,


--দিতে পারলে বলো। 


-- দিবো তো অবশ্যই!তবে আমার তো জানা দরকার আমার ফ্রেন্ড কোন প্রবলেমে পড়েছে!!


-- আমার ভাই সুমন! গতকাল বাড়ি ফেরেনি। আজ শুনলাম হসপিটালে। ও পয়সন খেয়েছে। অবস্থা ভালো না।টাকা লাগবে। আমার কাছে টাকা নেই ইরফাদ....


-- আমাকে আগে কেনো বলিসনি? 


--ভীষণ একা লাগছে, অসহায় লাগছে। একটা মেয়ের জন‍্যে কিছু কিছু সময় জীবনটা ভীষন ভারী ভীষণ। 


-- আমি আসছি ওয়েট...


-- কষ্ট করে আসতে হবে না। টাকা দিতে পারলে দিও। আই"ল ম‍্যানেজ.....


-- বেশী বুঝিস!!  আমি আসছি...


বলেই ফোন রাখে ইরফাদ। তারপর সিনথিয়ার সামনে দিয়েই তড়িঘড়ি করে ক‍েবিনেট খোলে  ,একটা ছোট্ট ব‍্যাগ স্কুল ব‍্যাগের মতো  কাঁধে ঝুলিয়ে নেয়। সিনথিয়ার দিকে তাকিয়ে বলে,


-- বাইরে যাচ্ছি।একা ভয় লাগলে ইভার কাছে থেকো।  বেশী লেট হলে ঘুমিয়ে যেও। বাসায় ফিরে আমি তোমাকে নিয়ে আসবো।


-- কোথায় যাবেন?


-- হসপিটালে,বাকিটা ফিরে বলবো ওকে?


-- অনেক লেইট হবে?


-- আই ডোন্ট নৌ। তবে আই"ল ট্রাই যতো তাড়াতাড়ি ব‍্যাক করা যায়।


সিনথিয়া চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকে। বেরিয়ে যায় ইরফাদ। এই তো একটু আগেই এলো, এখনি যেতে হবে। সে তো অনেক অপেক্ষা করেছিলো। 


ড্রয়িং রুম পার হতে হতে ইভাকে ডাকে ইরফাদ,


-- ইভা!


-- বলো ভাইয়া


--বাইরে যাচ্ছি, সিনথিকে দেখে রেখো। নতুন জায়গা একা একা খারাপ লাগবে...


-- কোথায় যাচ্ছো...


-- হসপিটালে, সুভার ছোট ভাই হসপিটালাইজড।


-- অফিসিয়াল কাজ আছে কোনো?


--নাহ..


--ভাইয়া যদি রাগ না করো তাহলে বলতাম সিনথিয়াকে নিয়ে বের হও। যেহেতু অফিসিয়াল কাজ না। তাহলে তো প্রবলেম হওয়ার কথা না ভাইয়া।


-- রাত হয়েছে। অনেক দূর যেতে হবে।


--মেয়েটা নতুন এসেছে... এই সময় তুমি কাছাকাছি থাকলেই ওর ভালোলাগবে। সেই তো সকালে না বলেই গেলে সারাটা দিন মেয়েটা একা একা। কিছুক্ষণ হলো বাসায় ফিরেছো। সারাদিন তো মনমরা ছিলো। এখন ফিরেছো মেয়েটা কতো খুশি। যাবেই তো বাইরে নিয়ে যাও। একটা লং ড্রাইভ ও হলো।


-- ওকে বাইরে নেয়া রিস্কি হবে। 


-- তুমি তো আছোই ভাইয়া। দেখে রেখো। প্লিজ নিয়ে যাও...


--নাহ


-- নিয়ে যাও না ভাইয়া।


-- ওকে,পাঁচ মিনিটে নিচে আসতে বল!

-- থ‍্যাংকস ভাইয়া


________________


হসপিটালের করিডোরে বসে আছে সুভা। রক্তচক্ষুতে আটকে আছে ছাঁই চাপা আগুন। যা তাকে পুড়িয়ে দিচ্ছে। পরিবার নামক দায়িত্ব ঘাড়ে বইয়ে বেড়াতে বেড়াতে আজ ক্লান্ত লাগছে তার। পৃথিবীর কোনো প্রান্তে কি এইটুকু শান্তির জায়গা নেই? যেখানে একটু শান্তিতে শ্বাস নেয়া যায়? একটা রাত চিন্তামুক্ত ভাবে শেষ হয়। বলিষ্ঠ শরীরের অধিকারী পুরুষটিকে সুভা চেনে আর ভালো করেই চেনে। তার মুখোশঢাকা চোখ দুটোকেও চেনে। তবে এই রাত বিড়েতে পাশের মেয়েটা কে? সুভা উঠে দাঁড়ায়। 


-- ঠিক আছিস!!


সুভা মাথা নাড়ায়। প‍্যান্টের পকেটে হাত দিয়ে শীড়দাড়া টান টান করে দাড়ায় ইরফাদ। তারপর বলে,


--ট্রান্সফার করেছি তোর একাউন্টে...


সুভা বাধ‍্য মেয়ের মতো মাথা নাড়ায়। জীবনের কোন মূহুর্তে দাঁড়ালে অন‍্যের থেকে টাকা চেয়ে নিতে লজ্জা লাগেনা,সে এই মূহুর্তে ঐ পর্যায়েই আছে। ইরফাদ বলে,


-- বল! প্রবলেম কি! সু*ই*সাইড এটেম্ট নেয়ার রিজন?


-- জানি না! 

-- গার্লফ্রেন্ড ইস‍্যু!


-- জানিনা। তবে কিছু দিন হলো টাকা পয়সা নিয়ে ঝামেলা হচ্ছে। বাবার ঔষধের টাকা, বাজারের টাকা, বন্ধু-বান্ধবের থেকে মিথ‍্যা বলে টাকা নিয়েছে। আমার থেকে ভার্সিটির সেমিস্টার ফি এর কথা বলেও টাকা নিয়েছে। আগে কখনো এমন করেনি।


-- তোর ভাইয়ের ফোন কোথায়? দিতে পারবি?


--ওর বন্ধুরা একটু আগে আমাকে দিয়েছে। দাড়াও দিচ্ছি...


ফোন বের করে দেয় সুভা। বিশ মিনিট ফোন হাতে রাখে ইরফাদ।


-- তোর ভাই অনলাইন জু*য়াতে আসক্ত। শুনেই বুঝতে পেরেছি। ফোনটা নিলাম তোকে প্রুফ দেওয়ার জন‍্য। দেখ....


--মানে??


-- জু!য়া!তে আসক্ত তাদের মধ‍্যে প্রাথমিক কিছু লক্ষণ দেখা যায়। যেমন -- তারা প্রচুর মিথ‍্যা বলে গল্প বানায়। আর অন‍্যের থেকে ধার টাকা নেয়, কিন্তু সঠিক সময়ে ব‍্যাক দিতে পারেনা। আবার অন‍্যের থেকে গল্প বানিয়ে টাকা নেয়। এভাবেই চলতে থাকে প্রক্রিয়া। লাষ্ট যখন দেয়ালে পিঠ ঠেকে যায় তখন এরা হয় নিজের প্রাণ নেয় নয়তো অন‍্যের। অহরহ কেস আসে এসব নিয়ে ... জু!য়া!র টাকা জোগার করতে কিডন‍্যাপিং করে মুক্তিপণ চায়। এদের মস্তিষ্ক পঁচে যায়। এমন কোনো জঘন্যতম পথ নেই এরা যেতে পারে না।


--আমার ভাই এমন একটা কাজ করলো...ওকে কোনো অভাব দেই নি আমি।


--ডোন্ট প‍্যানিক! 

সুমন কি থেকে কি করেছে আমরা কেউ জানিনা। তবে বেঁচে আছে সত‍্যি একদিন জানা যাবেই।  এটা আসলেই একটা মরণ খেলা, একটা অভ‍্যাসে পরিণত হয়। এটা একটা জাল। একবার জড়িয়ে গেলে এই শেকল থেকে মানুষ বের হতে পারে না। হয় মৃতু নয় ধ্বংস......


-- এতোকিছু হয়ে গেলো আমরা কেউ কিছুই জানলাম না?


-- হাতের মুঠোয় ডিভাইস, অন্ধকার রাতের আড়ালে কতো জীবন আধারে তলিয়ে যাচ্ছে আমরা কেউ জানিনা। 


সুভার চোখ থেকে টুপটুপ করে পানি পড়ছে। এতো কষ্ট করে যে পরিবার বেঁধে রেখেছে, যে স্বপ্ন বুনেছে তা যে গুড়োবালির মতো ঝুরঝুর করে পড়ছে। কি থেকে কি হয়ে গেলো। সুভা নিরবে চোখের চোখ ফেলে বলে,


--আইন ব‍্যবস্থা থাকতে এসব এখনো চলে?


-- দেশীয় নতুন একটা এপস রিসেন্টলি বন্ধ করা হয়েছে। তবে অহরহ বিদেশী এপস এখনো আছে। সব গোড়া থেকে উপড়ে ফেলা কি সম্ভব। চোখে পড়ে এমন একটা দুইটা এপস বন্ধ করা যেতেই পারে। চোখের অন্তরালে আরও কতো ক্রাইম হচ্ছে, কতো এপস সৃষ্টি হচ্ছে সব বন্ধ করা সম্ভব নয়।


-- তাহলে এই তরুণ সমাজ কি করে সঠিক পথ দেখবে,কি করে ধ্বংসের পথ থেকে দূরে থাকবে। আমার ভাই খুব ভালো স্টুডেন্ট ছিলো। আমার খুব কষ্ট হচ্ছে ইরফাদ। একটা ছোট্ট প্রাণ এভাবে ঝড়ে যাচ্ছে। 


-- নিজেদের সচেতন থাকতে হবে। এছাড়া কোনো ওয়ে নেই.....হোয়াট এভার!  বি স্ট্রং....


বাঁধ ভাঙা কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে সুভা। ইরফাদ চোখের ইশারা দেয়। সিনথিয়া পাশে গিয়ে দাঁড়ায়। তারপর বলে,


-- কেঁদোনা আপু... সব ঠিক হয়ে যাবে।


সুভা চেয়ারে বসে। ইরফাদ বলে,


-- আন্টি কোথায়?


-- বাসায়, বাবা একা তাই।


এরপরেই সিনথিয়াকে পাশে বসায় সুভা। সিনথিয়ার হাত মুঠোয় নিয়ে বলে,


-- তোমার নাম কি?


-- সিনথিয়া ইবনা।

-- ভারী মিষ্টি মেয়ে তো তুমি। তোমার ছোঁয়ায় কান্নারা আমাকে রেখে পালিয়ে গেলো। এমন একটা মেয়েই আমার ফ্রেন্ডের জন‍্য প্রয়োজন ছিলো। যার ছোঁয়া তে সব সুন্দর হয়ে যায়। বিয়ে করবি কবে ইরফাদ।


-- ও আমার ওয়াইফ..


-- বিয়ে করেছিস। একবার জানালিও না। 

-- বিয়েটা ঐভাবে হয়নি।


--বাদ দে, এখন বাসায় যা। নতুন বউ নিয়ে ফ্রেন্ডের দূর্দিনে কেউ ছুটে আসে। তুই বন্ধু হিসেবেও বেষ্ট। সত‍্যিই তুই মাস্টার পিছ। 


-- বেশী বেশী বলে ফেলছিস। তুই বাসায় যা। ফ্রেশ হয়ে আয়। ততোক্ষণ এখানে আছি।


-- আরে না। যা করেছিস আমি ঐ ঋণ ই তো শোধ করতে পারবো না। এখন আবার নতুন বউ নিয়ে এসে আমার জন‍্যে এমন কিছু করিস না যাতে তোর বউ   এর কাছেও ঋণি হয়ে যাই।


--ধুরর! কি সব কথা। খেয়েছিস?


-- খেয়ে নিবো। তোরা যা..


-- বাইরে চল।


-- তোরা বাসায় যা তো। 


-- বেশী বুঝিস! চলতো


________ 


সুভাকে জোর করে খাবার খাইয়ে, সুভার ভাইকে দেখে ফেরার পথ ধরে ইরফাদ। সিনথিয়াকে গাড়িতে বসিয়ে পিছন দিকে ফিরে যায় ইরফাদ। ইরফাদ অনুভব করে সিনথিয়াকে এইখানে আনা  ঠিক হয়নি। সুভার মনে আঘাত লেগেছে।ঠিক একারণে সিনথিয়াকে আনতেও চায়নি সে। তবে বোনের জোড়াজুড়িতে আনতে বাধ‍্য হয়েছে। ইরফাদ সুভার দিকে ফিরে বলে,

-- আ"ম সরি! পারলে ক্ষমা করে দিস।


অনেকটা সময় পর ফোন মৃদু কম্পনে কেঁপে ওঠে। ইরফাদ চোখ বুলায় মেসেজটিতে,


-- তোমাকে ভালোবেসেছিলাম, একসময় খুব করে পেতেও চেয়েছি। তবে তুমি বন্ধুত্বের বাইরে কখনো আমাকে চিন্তাও করোনি। তুমি বন্ধু হিসেবে আমার জন‍্যে সে সময় থেকে আজ অবধি যা করেছো তা পৃথিবীর রক্তের সম্পর্কের কেউ ই করবে না। আমি তোমার কাছে চির কৃতজ্ঞ। আমি ভালোবেসেছি এর পরেও তুমি ভালোবাসোনি এই নিয়ে কখনো কিছু ভেবোনা।ভালোবাসতে হলে ঐ মানুষটাকে অনুভব করতে হয়। তুমি কখনো আমাকে অনুভব করোনি। তাই আমাকে করুণা না করে দূরে ঠেলে দিয়ে তুমি সঠিক কাজ করেছো। তোমাকে আজ একটা সত‍্যি কথা বলি। ভালোবাসতাম, ভালোবেসে একাকিত্বকে বেঁছে নিয়েছি। তোমাকে ভালোবাসতে যেমন ভালো লাগে, ঠিক তেমন তোমার সাথে পাগলামি করতেও ভালো লাগে। আমি জানি তুমি আমাকে কখনো গ্রহণ করবে না। তবুও কেনো যেনো দুষ্টুমি করতে ভালোলাগতো। তুমি সরি বললে-- তাই সত‍্যিটা আজ বলেই দেই।


তুমি তো জানো সবটা। সে সময়ে তুমি টাকা না দিলে পড়াশুনাটুকু করতে পারতাম না। তুমি টাকা না দিলে আমার জীবনটা আরও কঠিন হতো। তবে তুমি জানো না আমার একটা প্রবলেম আছে। যেটা শুরু হয়েছে অনেক বছর আগেই। ক্লিয়ার করে বললাম না। তুমি বুঝে নিও। আমাকে ডক্টর দেশের বাইরে থেকে ট্রিটমেন্ট করতে বলেছিলো। টাকার অভাবে পারিনি। তুমি আমার জন‍্যে অনেক করেছো তাই বিবেক বোধ থেকে বলা হয়নি। অতঃপর এই মাসে আমি দেশের বাইরে ডক্টর দেখিয়েছি। তারা বলেছেন আমি অনেক লেইট করে ফেলেছি। আমি কখনোই মা হতে পারবো না ইরফাদ। তুমি যে দায়বদ্ধতা থেকে সরি বললে। ঐটা মনে রেখোনা। তুমি চাইলেও এই জীবনে তোমাকে আমার আর পাওয়া হতোনা। তুমি মুক্ত...

পৃথিবীর সবাই যদি তোমাকে ভালোবাসে তাই বলে সবাইকে তো আর গ্রহণ করা পসিবল নয়। তুমি যা করেছো। একদম ঠিক করেছো। আমাকে নিয়ে চিন্তা করোনা। আল্লাহ্ উত্তম-পরিকল্পনাকারী। তিনি একদিন এতোই দিবেন যা  আমরা হয়তো কল্পনাও করিনি। সবশেষে বলবো, তুমি সুখি হও। তুমি ভালো থাকলে আমার অন্তর প্রশান্তিতে থাকবে। 


মেসেজ পড়েই লুকিং গ্লাসে চোখ দেয় ইরফাদ। কালো রঙের একটা প্রাইভেট কার তার গাড়ির পেছনে। ইরফাদ গাড়ির স্পিড বাড়ায়। পেছনের গাড়ি যেনো ধেয়ে আসে। ইরফাদ স্পিড কমিয়ে দেয় পেছনের গাড়ির স্পিড কমে। ইরফাদ আবার স্পিড বাড়ায়। পেছনের গাড়ি ঝড়ের গতিতে এগিয়ে আসে। ইরফাদ ঝড়ে গতিতে দাপিয়ে গাড়ি চালায়। সিনথিয়া ইরফাদের দিকে একবার আরেকবার পেছনে তাকায়। ভয়াল অশনী সংকেত পেয়ে সিনথিয়া ইরফাদের দিকে তাকিয়ে বলে,


-- আমাদের ফলো করছে!!


ইরফাদ আড় চোখে তাকায়। সাপের মতো আঁকাবাকা  করে গাড়ি চালাচ্ছে ইরফাদ গাড়ির মধ‍্যে যেনো ঝড় বয়ে যাচ্ছে। ইরফাদ ধীর গলায় বলে,


--ভয় পাচ্ছো?


সিনথিয়া মাথা দু"দিকে নাড়ায়। ইরফাদ রিভলভার বাড়িয়ে দেয় সিনথিয়ার দিকে। তারপর বলে,


--সিটের উপর দিয়ে পেছনে যাবে। আমি গাড়ি সাইড করবো। পেছনের দরজা খুলে পেছনের গাড়ির টায়ারের দিকে তাক করে ট্রিগার চাপবে।


সিনথিয়া হাতে তুলে নেয় রিভলভার। সিট পেরিয়ে পেছনে চলে যায়। দরজা হালকা ফাকা করে। ইরফাদ গাড়ি সাইড করে ব্রেক চেপে দেয়। পেছনের গাড়ি মাঝামাঝিতে আসতেই  ইরফাদ ডিরেকশন দেয়,


-- শ‍্যুট নাউ।


সিনথিয়া ট্রিগার চেপে দেয়। জীবনের প্রথম বুলেট টা লক্ষ্য মিস করে যায়। ইরফাদ বলে,


--আরেকবার সিনথি হারি আপ।


সিনথিয়া ট্রিগার চাপে। টায়ারে গুলি লেগে থেমে যায় গাড়ি। ইরফাদ দরজা ঠেলে বাইরে বেরিয়ে আসে। পেছনের কালো রঙের গাড়িতে ড্রাইভার সিটে বসা মানুষের মুখ কালো কাপড়ে বাঁধা।পেছনে  পরপর পাঁচটা বড় গাড়ি। আশঙ্ক বিপদ সংকেত পেয়ে পুনরায় গাড়িতে বসে ইরফাদ। বসেই ঝড়ের গতিয়ে স্ট্রিয়ারিং ঘুড়ায়, গাড়ির স্পিড বাড়িয়ে দেয়। নিরব, নিস্তব্ধ রাস্তায় শিরদাড়া টানটান করে দাপিয়ে গাড়ি চালাচ্ছে ইরফাদ। আশেপাশের গাছপালা ছুটে ছুটে পেছনে চলে যাচ্ছে। ইরফাদ তাড়া দেয় সিনথিয়াকে,


-- এখানে আসো!


সিনথিয়া উঠে আসে। নিজের সিটে বসে। ইরফাদের চোখে কিছু খেলা করছে। সে কি চিন্তিত। সিনথিয়া বলে,


-- কিছু হয়েছে?


-- তোমাকে আজ নিয়ে আসা ঠিক হয়নি।


--কেনো? গাড়ি তো থেমেই গেলো...

-- পেছনে আরও পাঁচটা আছে...


সিনথিয়া পেছন দিকে তাকায়। তারপর বলে,


-- আজ আমি তো সুস্থ আছি। দূর্বলও নই।আমাকে নিয়ে ভয় পাবেন না। 


-- ওরা দলে ভারী। রিস্ক আছে সিনথি। কতোক্ষণ টিকতে জানিনা। যদি কিছু হয়ে যায় তুমি পালিয়ে যাবে। 


-- আমি আপনাকে রেখে কোথাও যাবো না। 


সাথে সাথেই থেমে যায় ইরফাদের গাড়ি। ইরফাদ পেছন ফেরে। পেছন থেকে ছুড়ছে বুলেট। এই মূহুর্তে মুখোমুখি এতোগুলো মানুষের সাথে লড়া সম্ভব না। ইরফাদ গাড়ির লাইট অফ করে দেয়।সিনথিয়ার দিকের দরজা খুলে ওপাশ দিয়েই বেরিয়ে যায় ইরফাদ। হাতের মুঠোয় সিনথিয়ার হাত নিয়ে ঝড়ের গতিতে দৌঁড়ায় ইরফাদ। পেছন থেকে মুখোশধারী দলবল পেছন থেকে তেড়ে আসে। নিস্তব্ধ, নিরব পাকা রাস্তা থেকে নেমে যায় ইরফাদ সিনথিয়া। ভয়াল অশুভ ছায়া তাদের ধাওয়া করে আসছে। রাস্তার নিচে সারিসারি শালবন অতিক্রম করে দৌড়ে যায় ইরফাদ। একে একে অশুভ মুখোশধারী শয়তান নেমে আসে। একের পর এক গাছ পেড়িয়ে ছুটতে থাকে ইরফাদ, হাতের মুঠিতে সিনথিয়ার হাত আরও শক্ত করে ধরে। সারি সারি আলো আধারির মাঝে শেষ প্রান্তে ঠেকে তারা। শয়তানের দলে হাতের টর্চ লাইটের আলোয় গাছের বাগানে আলো খাঁ খাঁ করে ওঠে। ইরফাদ দাঁড়ায়। পেছন থেকে একদল মুখোশধারী এগিয়ে আসে। সিনথিয়াও দাঁড়িয়ে যায়। গাছের ছোট মোটা ডাল ভেঙ্গে ইরফাদ সিনথিয়ার হাতে দেয় । অতঃপর শুরু হয় হার জিতের খেলা। ইরফাদের হাতে রিভলবার। পরপর  ছয় বার ট্রিগার চাপে ইরফাদ। সামনের ছয় জন ধপাস করে পড়ে মাটিতে। এবাবেই এগিয়ে যায় ইরফাদ। অতঃপর রাস্তা থেকে কালো মুখোশ বাঁধা আরেকটি মুখোশধারী দল নামে। এতোগুলো মানুষের সাথে একা পেরে ওঠা সম্ভব না।ইরফাদ সিনথিয়ার হাত ধরে। তারপর পিছিয়ে যায়। সিনথিয়াকে বলে,


-- তুমি যাও...


-- নাহ


-- প্লিজ যাও


-- কিছুতেই যাবো না..


অতঃপর ইরফাদ সিনথিয়ার হাত নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে ঝড়ের গতিতে দৌড়াতে থাকে।পেছন থেকে বাকিরাও দৌড়ে আসে।মিনিট দশেক লুকোচুরি খেলতে খেলতে একটা বুলেটে থেমে যায় ইরফাদ। বিকট শব্দে রিভলবারের নল থেকে বের হয় ধাতুর বুলেট,পেছন থেকে  বুলেট ছুটে গিয়ে লাগে ইরফাদের পিঠে, থমকে দাঁড়ায় ইরফাদ। রক্ত চক্ষুতে ছলকে ওঠে গরম জল। থেমে গিয়ে ফিরে তাকায় সিনথিয়া। দূরে দাঁড়ানো মুখোশধারীর রিভলভারের নলের দিকে তাকায় সিনথিয়া আরেকবার ইরফাদের সাদা ধবধবে শার্টের পিছনে।এমন দৃশ‍্যে নিজের শ্বাস আটকে যায় সিনথিয়ার.....


 বন্ধ হয় টর্চের আলো। অতঃপর নিস্তব্ধ,বিদঘুটে পরিবেশে নামে প্রগাঢ় নিরবতা...


চলবে??


#নোটবার্তাঃ চেক দিতে পারিনি। সবাই রেসপন্স করবেন।


৫১ তম পর্ব পড়ার জন্য এখানে ক্লিক করুন 

৪৯ তম পর্ব পড়ার জন্য এইখানে ক্লিক করুন।

বৃহস্পতিবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০২৪

#কিছু_ইশারাতে #পর্ব ০৩ #ইপ্সিতা_আনন

 কিছু ইশারাতে
পর্ব ০৩
ইপ্সিতা_আনন



বাস থেকে বাসস্ট্যান্ডে নামতেই সামনে প্রিয় বন্ধু আহিরকে দেখে অবাকই হলো মেহজাবীন।

আহিরেরও একই অবস্থা হলো জাবীনকে তার বাবার সাথে দেখে।

জাবীনের তো গতকালই বিয়ে হয়ে গেছে। তবে আজ বাবাকে নিয়ে এই ঢাকায় কেন?

তার তো শ্বশুরবাড়ি থাকার কথা ছিলো!

আহির আর জাবীন একই ভার্সিটিতে পড়াশোনা করছে। একমাত্র এই আহিরের সাথেই জাবীনের সবচেয়ে ভালো বন্ধুত্ব হয়েছে। অবশ্য মেয়ে একজন আছে যার নাম রিয়া। তবে আহির কিছুদিনের জন্য কুমিল্লা গিয়েছিলো। সে নাকি এখনও ফেরে নি বাড়িতে। তাহলে এই ছেলে এত সকালে এখানে কি করছে? ভাবলো জাবীন।

‘ তুই এখানে?তুই না কুমিল্লা ছিলি? ’

আহিরও উত্তর করলো,

‘ ছিলাম। গতকালই এসেছি। এখন যাত্রাবাড়ি যাব দোস্ত। ’

মইনুল ইসলাম কিছু বুঝলেন না। আহির মইনুল ইসলামকে সালাম জানালো। আর নিজের পরিচয় দিলো,

‘ আঙ্কেল আমি শেখ আহির। আমি জাবীনের ভালো বন্ধু। ’

মইনুল ইসলাম সন্তোষে বললেন,

‘ ওহ আচ্ছা। তোমার ব্যাপারে জাবীন আমাকে একদিন বলেছে। ’

ফিচেল হাসলো আহির। বাস আসতেই বাসে উঠতে উঠতে জাবীন আর মইনুল ইসলাম দুজনকেই বলল,

‘ আঙ্কেল আমি আসি। অন্য একদিন আবারও দেখা হবে। আর জাবীন আঙ্কেলকে নিয়ে আমাদের বাড়িতে বেড়াতে যাস। ’

আহির বাসে উঠতেই বাসটা চলে গেলো। মইনুল ইসলাম কাউকে একটা কল করলেন। অপরপ্রান্ত হতে কল রিসিভ হতেই মইনুল ইসলাম বললেন,

‘ আমরা পৌঁছে গেছি হামিদ। ’

ওপাশ হতে হামিদ নামক ব্যক্তিটি কি বলল বোঝা গেলো না তবে মইনুল ইসলাম বললেন,

‘ তুই কাউকে পাঠিয়ে দে। ’

বলেই ঠিকানাটা দিয়ে কল কেটে দিলেন।

বাস স্ট্যান্ডের সামনেই একটি হোটেল ছিলো। বাবা মেয়ে সেখানে সকালের নাশতা সেড়ে ফেলেন। তখনই মইনুল ইসলামের ফোনে অপরিচিত এক নাম্বার থেকে কল আসে।

মইনুল ইসলাম কল রিসিভ করতেই অপরপ্রান্ত হতে কোনো এক ছেলে প্রথমেই সালাম দিয়ে ওঠে,

‘ আসসালামু ওয়ালাইকুম আঙ্কেল। ’

মইনুল ইসলামও সালামের উত্তর করেন। এরপর ছেলেটি বলে,

‘ আঙ্কেল আমি হামিদ মাহমুদের ছেলে হাসান মাহমুদ বলছি। আমি আপনাদের দেওয়া ঠিকানায় দাঁড়িয়ে আছি। আপনারা কোথায়? ’

মইনুল ইসলাম মেয়েকে নিয়ে হোটেল থেকে বের হতেই সেই বাস স্ট্যান্ডের সামনে কিছু মানুষ দেখা গেলো। এরমধ্যে জাবীনের চোখ গিয়ে পড়লো এক যুবকের ওপর। যে কানে ফোন নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। যুবক মুখটা উপরে তুলতেই জাবীন চিনে ফেললো। আর চমকে গেলো। এ তো সকালে তাদের এক্সিডেন্ট করা সেই ছেলেটা। এদিকে মইনুল ইসলাম হোটেলের নাম বলছেন ছেলেটাকে।

এদিকে হাসানও সামনের হোটেলের দিকে তাকাতেই জাবীন আর মইনুল ইসলামকে চমকে গেলো। বুঝতে আর বাকি রইলো না এই সেই মইনুল ইসলাম যার কথা বাবা সবসময়ই বলেন তাদের। সকালের ঘটনা নিয়ে লজ্জা আর অস্বস্তি নিয়ে সামনে এগিয়ে গেলো হাসান।

‘ আঙ্কেল আমিই হাসান মাহমুদ। হামিদ মাহমুদের বড় ছেলে। ’

বাক্যটা শুনে মইনুল ইসলাম বাম পাশে ফিরে তাকালেন। তিনি নিজেও চমকে গেলেন সকালের সেই ছেলেটাকে দেখে। চমকে গিয়ে বললেন,

‘ বাবা তুমি? ’

হাসান একবার মইনুল ইসলাম তো একবার জাবীনের দিকে তাকিয়ে মেকি হাসার চেষ্টা করে বলল,

‘ আসলে তখন অপরিচিত ছিলাম। আমিও চিনতে পারি নি, আপনারাও চেনেন নি। আমি আশেপাশেই ছিলাম। বাবা ফোন করে আপনাদের কথা বললো, তাই চলে এলাম। তবে আমার জন্য এমন সারপ্রাইজ আছে ভাবতে পারি নি। ’

‘ আচ্ছা সমস্যা নেই চলো যাওয়া যাক। ’ মইনুল ইসলাম হেসে বললেন কথাটা।

হাসানের সাথে হাঁটা আরম্ভ করলেন। রাস্তার অপজিট সাইডে গিয়ে একটি সিএনজি ঠিক করলো হাসান। সিএনজিতে উঠে পড়লো তিনজন। কয়েক মিনিটের ব্যবধানে তারা পৌঁছে গেলো ছয়তলা ভবনের এক বিল্ডিং এর সামনে।

এদিকে চারপাশে সব জায়গাতেই উঁচু উঁচু দালানকোঠা। মুগ্ধকর হলেও জাবীনের মন টিকছে না। বিশেষ করে এই হাসানকে দেখার পর থেকে তো আরও না। তবুও কিছু করার নেই।

হাসান মইনুল ইসলামের থেকে ব্যাগটা নিয়ে হাঁটতে আরম্ভ করলো। মইনুল ইসলাম আর জাবীনও পিছু পিছু গেল। লিফটে উঠতেই মইনুল ইসলাম জিজ্ঞাসা করলেন,

‘ এই বিল্ডিংটা তোমাদের? ’

‘ হ্যা আঙ্কেল। আমরা তৃতীয় এবং চতুর্থতলা মিলিয়ে থাকি। ’

বোঝা গেলো তৃতীয় এবং চতুর্থতলা মিলে ডুপ্লেক্স বাসা বানানো হয়েছে।

তিনতলায় আসতেই তিনজনে নেমে গেলো।

হাসান বাসার কলিংবেল বাজাতেই খুব ভদ্র এবং সুন্দর দেখতে একজন মহিলা দরজা খুলে দিলেন। সামনের মানুষদেরকে দেখতেই মিষ্টি হাসি দিয়ে মইনুল ইসলামকে সালাম দিয়ে বললেন,

‘ অনেক বছর পর ভাইজান। ’

মইনুল ইসলামের সাথে কথা বলা শুরু হলো সেখানে দাঁড়িয়েই। এদিকে হাসান ফাকফোকর পেতেই জাবীনের দিকে তাকালো। জাবীন বাসাটা এদিক ওদিক দেখতেই চোখে চোখ পড়ে গেলো হাসানের সাথে। হাসান বিব্রতবোধ করলো। তড়িৎ বেগে চোখ সড়িয়ে নিলো।

এদিকে মইনুল ইসলাম আর হাসানের মা লামিয়া বেগমের কথা বলার সময় হামিদ মাহমুদ আসলেন আর মইনুল ইসলামকে জড়িয়ে ধরলেন।

‘ অনেক বছর পর বন্ধু। ’

কথাটা বলে জাবীনের দিকে তাকালেন। আর জাবীনের মাথায় হাত রেখে বললেন,

‘ মাশা-আল্লাহ মেয়ে বড় হয়ে গেছে। ’

জাবীন সালাম দিলো। লামিয়া বেগম উনাদের রুম দেখিয়ে দিলেন। বললেন,

‘ আজকের রাত এই বাসায় থাকেন। আগামীকাল ওপরে পাঁচতলায় উঠতে পারবেন। ’

মইনুল ইসলামের জন্য আলাদা রুম আর জাবীনের জন্য আলাদা রুম ঠিক করা হলো।

বাড়িটা খালি ছিলো মইনুল ইসলাম জিজ্ঞাসা করলে জানা যায় গতকাল নাকি বাড়ির সবাই কোথাও ভ্রমণে গিয়েছে।

মইনুল ইসলামকে রুম দেখিয়ে দেওয়ার পর জাবীনকে একটি রুমে নিয়ে যাওয়া হলো। রুমটি ভীষণ সুন্দর ছিলো। লামিয়া বেগম জাবীনকে জিজ্ঞাসা করলেন,

‘ আম্মু হিজাব খোলো এখন। আর তোমার নামটা? ’

জাবীন হিজাব তুলে হেসে জবাব দিলো,

‘ ফারিহা মেহজাবীন। ’

জাবীনকে দেখে মুচকি হেসে লামিয়া বেগম বললেন,

‘ নামের মতোই দেখতেও তুমি মাশা-আল্লাহ। কারও নজর না লাগুক মেয়ে। ’

কিছুক্ষণ কথা বলে চলে গেলেন লামিয়া বেগম। খাবারের ব্যবস্থাও তো করতে হবে। দুপুর হয়ে এলো।

সারাদিন কাটলো খুবই গম্ভীরভাবে।

জাবীন দুপুরে খাবার খেয়ে নিজের রুমে এসে ঘুম দিয়েছে। বাবার কথা সে জানে না। হয়তোবা বন্ধুর সাথে আড্ডা দিয়েছে নতুবা তিনিও ঘুমে। নির্জন এই বাসাটাই জাবীনের খুব একটা ভালো না লাগলেও চলনসই ছিলো হাসানের অনুপস্থিতিতে।

এদিকে বিকেলের দিকে জাবীনের ফোনে কেউ ফোন করে জানালো জাবীনের বান্ধবী রিয়া নাকি এক্সিডেন্ট করেছে।

জাবীন প্রিয় বান্ধবীর চিন্তায় বাবাকে বলে সেসময়ই জাবীন রওনা হয় হাসপাতালে।

ঠিকানা অনুযায়ী হাসপাতালে গিয়ে দেখে রিয়ার বেশ বড়সড় এক্সিডেন্ট হয়েছে। বন্ধুমহলের বাকি দুজন বন্ধুও এসেছে। সবার চোখেই জল।

জাবীনের ফোনে বাবার কল আসতেই হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার সময় শক্তপোক্ত কোনো ব্যক্তির সাথে ধাক্কা লেগে যায় তার।

শাহীর হাসপাতালে ঢুকতে যাবে সেসময় কেউ এসে তার বুকে ধাক্কা খায়।

শাহীর বিরক্তি নিয়ে তাকালেই দেখতে পেলো সামনে দাঁড়ানো এলোমেলো চুলে এক কন্যাকে।

শাহীরের হৃদয়ে ভায়োলিনের নরম সিক্ত আওয়াজ সুর তুললো যেন।

শাহীর কিয়ৎপল একদৃষ্টে তাকিয়ে চোখ ফিরিয়ে নিলো।

জাবীন বারবার সরি বলে শেষবারের মতো সরি বলতে যাবে, তার আগেই শাহীর তাকে থামিয়ে বিড়বিড় করে বলল,

‘ এমন ভুল তুমি সারাজীবন করতে পারো মেয়ে। এই শাহীর অনুমতি দিলো তোমায়। ’

জাবীন শুনলো না সে কথা। এদিকে শাহীর নিজেও অবাক হলো নিজের কথায়। প্রথম দেখাতেই এমন আজব কথাবার্তা মোটেও তার পার্সোনালিটির সাথে মানানসই নয়। তাই গম্ভীর হয়ে কিছুটা রুষ্ট আওয়াজে বলল,

‘ চোখ কোথায় দিয়ে হাঁটছিলেন? ’

জাবীন কানে ফোন রেখেই বলল,

‘ আ'ম এক্সট্রিমলি সরি। ’

বলে চলে যেতে নিতেই শাহীর বলে,

‘ এই দাঁড়ান দাঁড়ান। এত বড় ধাক্কা দিয়েছেন যে এখন আমার বুকে ব্যথা করছে। এমন কাজের জন্য সরি বললেও ক্ষমা পাওয়া যায় না। ’

জাবীন রেগে গেলো,

‘ শুধুমাত্র একটু ব্যথাই তো পেয়েছেন, মরে তো আর যান নি।’

চলবে.


(গতপর্বে হাসান আর আহিরের নাম নিয়ে কিছুটা ভুল হয়েছিলো। আমি ক্ষমাপ্রার্থী। আমার বাবা অসুস্থ। সবাই দোয়া করবেন আমার বাবা জন্য।)

পৃষ্ঠাসমূহ