বুধবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০১১

আবার আসবে দিন সূর্যিত আলোর


শোনগো তোমরা শোন ।
এমন একটি দেশের কথা 
পাবেনা খুঁজে কোন।
হেথায় মিলেছে পদ্মা-মেঘনা 
বাউল, মারফতি গান
জারি সারি ঢেউ-এ দোলে ফুল
হিন্দু মুসলমান।
এই আমাদের বাংলা। কিংবদন্তি বঙ্গলা নামের দেশ। পদ্মা মেঘনা যমুনা ব্রক্ষপুত্র অববাহিকায় শান্ত, ছায়াসুনিবিড়, কখনো বা প্রকৃতির রুদ্র তান্ডবে বিক্ষুব্দ জনপদ। এখানে বছর জুড়ে মায়ের আঁচলের মত ছায়া দিয়ে রাখে ৬ টি ঋতু। জারি-সারি-ভাটিয়ালি মারফতি গানে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে গান গায় হিন্দু মুসলমান। এখানে ভূমিপুত্রগণ রোদ-বৃষ্টিতে ঝলসে মাঠে বোনে ধান। সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ-এ ফেলে জাল।
এই দেশের প্রতিটি ঘরের দাওয়া কখনো ভরে থাকে সেদ্ধ ধানের গন্ধে, কখনো বা আকালের গ্রাসে। তবু হার মানে না, হার মানতে জানে না ওরা। সুখ-দুঃখে জড়িয়ে থেকেও তাই এ দেশে আসে উৎসব। বুঝি নবান্ন উৎসবে সবাই গলা ছেড়ে ধরে।
তুমি আমার নক্সী কাঁথার মাঠ
তমি আমার প্রথম কাব্য, প্রথম প্রেমের পাঠ।
তুমি আমার ঈশান কোনের মেঘ
তমি আমার গোপন প্রেমের আকন্ঠ উদ্বেগ।
তমি আমার দুচোখ ভরা জল
তুমি আমার নিষিদ্ধ গান হৃদয় টলোমল।
তুমি আমার ঝরা বকুল ফুল
তুমি আমার যুদ্ধে যাওয়া ভায়ের রেশমি চুল।
তুমি আমার বীণার ছিন্ন তার
তুমি আমার দঃখি মায়ের বিপন্ন সংসার।
তুমি আমার মুিক্তসেনার গান
তুমি আমার মাঠের বুকে স্বর্ণালি অঘ্রাণ।
তুমি আমার মুক্ত স্বাধীন দেশ
তুমি আমার স্বর্গপরী আজন্ম উদ্দেশ।

নদীবিধৌত আমাদের এই বাঙ্গলাকে কবি বলেছেন ধন-ধান্য পুষ্প ভরা । বাঙ্গলার রুপ, ঐশ্বর্য, প্রাচুর্যের খ্যাতি তাই ছড়িয়ে পরেছিল বিশ্বময়। ফলে বারবার এসেছে আঘাত।
হুন, আর্য, দ্রাবিড়, মোঙ্গঁল, পর্তুগীজ, ইংরেজদের সাথে লড়ায়ের ইতিহাসে জ্বলে উঠেছে অসংখ্য বীর বাঙ্গালীর নাম। তাই আমরা গর্ব করে বলি আমরা তিতুমীর, বারো ভুঁইয়ার বংশধর, সিরাজউদ্দৌলার রক্ত, সুর্যসেন, প্রিতিলতার ভাই।
দুশো বছরের ইংরেজ শাসন দমাতে পারেনি আমাদের। অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষার পর এলো ১৯৪৭ সাল। হাজার বছরের সমপ্রিতির ইতিহাস গড়া এই জনপদ অবশেষে ভাগ হলো ধর্মের নামে। শান্তিপ্রিয়, ধর্মভিরু বাঙ্গালীরা ভাবলাম এই বুঝি স্বাধীনতা। এই বুঝি মুক্ত উড়ার আকাশ।
কিন্তু ভুল ভাঙ্গঁতে দেরী হয়নি। এক দৈত্যের কারাগার থেকে আরেক পিশাচেরর পাল্লায়। আঘাত এলো ভাষায়। বঙ্গোপসাগরের ভয়াল ঢেউ-এর মত গর্জে উঠল বাঙ্গলা,
রাষ্ট্র ভাষা বাংলা চাই 
চললো গুলি, রাজপথ রক্তে ভিজিয়ি দিলো সালাম, রফিক, বরকত।
কে ভাবতে পেরেছিল সেই আমাদের আসল সংগ্রামের শুরু। তারপর ঊনসত্তর, ৬ দফা, এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। ধুর্ত, শোসক, পিশাচেরা ফন্দি করে। অবশেষে একদিন, কালো রাতের অন্ধকারে নিরস্ত্র বাঙ্গালীর উপর ঝাঁপ দিলো ধুর্ত হায়না। ২৫ শে মার্চ, ভয়াল রাত।
অন্ধকার তো ঘোচেনা অন্ধকারে 
সূর্যপ্রখর দীপ্তির আয়োজন
তাইতো মশাল জ্বেলেছি প্রণের স্বরে 
স্লোগানে দীর্ণ কারফিউ তর্জন।

ব্যর্থ সকল সন্ত্রাসী গর্জন
কাাঁপায় না আর জনতার চিত্তকে
করবেই জানি শোষিতেরা অর্জন
মুক্তিপ্রতিম রক্তিম বৃত্তকে।

আস্ফালকের পলাতক পদরেখা 
বুকের শোণিতে করেছি সচিহ্নিত
কোথায় পালাবে মুছে সে রক্ত-লেখা
এবার যে তার বিনাশ সুনিশ্চিত।
শুরু হলো যুদ্ধ। কন্ঠে কন্ঠে দৃপ্ত শপথ- রক্ত যখন দিয়েছি রক্ত আরও দেবো। তবু এই দেশকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাল্লাহ। লেফট রাইট লেফট, লেফট রাইট লেফট। একদিকে বাঙ্গালীর জীবনপণ সাহস অন্যদিকে শোসক হায়নাদের সুসজ্জিত স্বসস্ত্র উল্লাস।
বাংলাদেশ আগুন লাগা শহর আর লক্ষ গ্রাম 
বাংলাদেশ শহীদ হল রক্তে লাল লও সালাম
বাংলঅদেশ বুলেট নিয়ে হুমড়ি খায় দীপ্ত হয় 
বাংলাদেশ কর্ফ্যুঘেরা লক্ষ কোটি কন্ঠময়
বাংলাদেশ রক্তে ভেজা মৌন এক অন্ধকার 
বাংলাদেশ শপথ নেয় তিক্ষè এক স্বাধীনতার
বাংলাদেশ বিশাল এক অগ্নিব্যুহ প্রজ্জ্বলিত
বাংলাদেশ মিছিল কাঁপা শ্লোগান দেয়া আন্দোলিত
বাংলাদেশ আগুন লাগা শহর আর লক্ষ গ্রাম 
বাংলাদেশ দুর্গময় ক্রুদ্ধ এক ভিয়েতনাম।

১৬ই ডিসেম্বর ১৯৭১। শীতের রৌদ্র সকালে স্বাধীন দেশে উড়লো তবে স্বাধীন পতাকা। সবুজ অরন্য প্রান্তর, শস্যের মাঠে উঠলো যেন রক্তে লাল সূর্য। বাঙ্গাঁলীর চোখে অশ্র“, মনে উল্লাস।
তিরিশ লক্ষ শহীদের রক্ত, হাজার হাজার মা-বোনের সভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত এই পতাকা সমুন্বিত রাখার শপথে বলিয়ান সবাই।
একে একে দিন যায়, মাস আর বছর। পুরোন শকুনেরা আবার খামচে ধরে স্বদেশের পতাকা। আসে ৭৫, ৮৫, ৯০। গনতন্ত্রের নাম ভাঙ্গিঁয়ে ছদ্দবেশে খুঁটি গাঁড়ে পিশাচতন্ত্র। 
শহীদ হন কর্নেল তাহের, সিরাজ শিকদার, নুর হোসেন, ডা. মিলন। রাস্তায় ধর্ষিত হয়ে পরে থাকে ইয়াসমিন পুর্নিমা।
শহিদের রক্তে কেনা পতাকা শোভা পায় শকুনের ঘরে। ৭ বার দুর্নীতিতে বিশ্বচ্যাম্পিয়ান। জঙ্গীবাদের আমূল আস্তানা তখন বাংলাদেশ। শকুনেরা ছুরি কাচি হাতে গোগ্রাসে গিলতে ব্যাস্ত মানচিত্র।
গত স্বাধীনতার ৪০ বছরে শাসক নামধারী শোসক বদল হয়েছে বারবার। কিন্তু তারা প্রত্যেকেই তাদের লোভ আর ক্ষমতার থাবায় ক্ষত বিক্ষত করেছে দখিনী বাংলাকে, তথাপি-
হে তরুন হে যুবক কলিমুদ্দিন শেখ মুই, অমপুরে আবাস হামার 
হে শ্রমিক হে কৃষক বিশ্বাস কি হয় বাহে এই মুই যুদ্ধে গেছিলাম
মেনো না হতাশা মুইতো একেলা নও অনেকেই আছিল সাথোত 
আবার আসবে দিন সূর্যিত আলোর লাঙ্গল ফেলিয়া বাহে এই হাতে অস্ত্র নিছিলাম।
আবার আসবে দিন সমূহ উজ্জল সময় দিয়াছে ডাক হামার কি সাধ্য বসি থাকিবো ঘরোত
মানুষ জাগবে ফের জাগবে মানুষ। ঘরের বাহির হয়া ঝাপ দেই অকুল গাঙ্গেতে
নিদারুণ দুঃসময়ে আমাদের অধিবাস আজ চোখে মোর এক ছবি সামনের তীরেতে নতুন 
নির্দয় সূর্যের তাপে ফেটে যায় মাটি ও মনন জীবনতো আছে এক, সোনার খাচায় নয়,
কামরুলী জানোয়ার দাঁতে ঘসে দাঁত ক্যামন স্বাধীন এক নতুন জীবন, 
জয়নুলে কাকেরা করে কা-কা স্বদেশ ভাগাড়ে অকুল বানের তোড়ে ভাসি যুদ্ধে চলি যাই
কাক ও কুকুর ছাড়া আর প্রণী যেন নেই হামার দ্যাশের লাগি কলিম কিষাণ মই যুদ্ধে চলি যাই
হতাশা ও ধোঁয়া ছাড়া কোন দৃশ্যকল্প নেই মরণের ভয়ডর ফেলি মুই যুদ্ধে চলি যাই
দুমুঠা ভাতের লাগি যুদ্ধে চলি যাই 
মানুষ নিরন্ন আজ মানুষের আস্থা নেই অন্নদাত্রী মৃত্তিকার প্রতি। প্রাণের ভিতরে জোশ যুদ্ধে চলি যাই
চারিদিকে অন্ধকার ছিদ্রাহীন শেষহীন অদ্ভুত আঁধার দারুণ মিছিল আসে মানুষের মুক্তির মিছিল
বিলাপ ও আর্তনাদ ছাড়া কোন উচ্চারণ নেই আসে চাষা আসে চাষী অস্ত্র তুলে নেয়
আপোষ ও বেঈমানী ছাড়া কোন রাজনীতি নেই আসে ছাত্র আসে যুবা অগ্নি জেলে দেয়
উৎকোচ ও দূনীতি ছাড়া কোন কারবার নেই আসে মাতা আসে বধু দাহ তেলে দেয়।
সামরিক উর্দি ছাড়া আর কোন ভগবান নেই। মানুয়ের উদ্বোধনে অবিশ্বাসী হয়ো না মানুয়
মানুষ ঘুমিয়ে সব বেঘোরে অঘোরে যেন অনন্ত শযনে। মানুষের উজ্জীবনে আস্থাহীন হয়ো না সারথী
তথাপি হে সাথী আবার আসবে সেই সময়ের বাঁক
হে কৃষক ক্ষেতের মজুর আবার আসবে সেই জাগরনী ধবল প্রহর 
ছাত্র বন্ধু ইতিহাসের প্রগতি রুদ্ধ করে শকিাত আছে কার 
শ্রমজীবী মৌলিক মানুষ এানুষ জাগবে ঠিক 
হে কামার হে কেেমার জেলে তাঁতী মাঝি-মাল্লা কুলি পুনরায় জাগবে মানুষ।
একবার প্রাণ খুলে কান পেতে ধরো
একবার অন্তর্দৃষ্টি মেলে ধরে দ্যাখো 
মানুষ কি জাগে নাই অন্ধকার তাড়ানিয়া সর্যের মতোন
মানুষ কি জাগে নাই তুফানের প্রচন্ড গতিতে
জীবন কি জাগে নাই মরণের আবরন ভেঙে
জীবন কি জাগে নাই বারুদের বিস্ফোরন ঠেলে?
বাহান্নোয় একদিন জেগেছিল সব। 
আবার আসেনি কি মহাজাগরণ সুমহান একাত্তরে
বেহেস্ত হতে নয় 
মানুষের মাঝ থেকে
মানবিক কন্ঠ কি হে গর্জে উঠে নাই
‘এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ 

বাঙ্গালী সংগ্রামী জাতী। কোন দূর্যোগ বাঙ্গালীর মাথা নোয়াতে পারেনি। তাই যতদিন এই দেশে দূরনীতি সাম্রাজ্যবাদ এবং যুদ্ধাপরাধী থাকবে ততদিন প্রগতিশীল মুক্তিকামী দেশপ্রেমিক মানুষের সঙগ্রাম চলবেই। 
জনতার সংগ্রাম চলবেই,
আমাদের সংগ্রাম চলবেই 
জনতার সংগ্রাম চলবেই 
মৃত্যুর ভর্ৎসনা আমরা তো অহরহ শুনছি
আধাঁর গোরের ক্ষেতে তবু তো ভোরের বীজ বুনছি
আমাদের বিক্ষত চিত্তে
জীবনে জীবনে অস্তিত্বে 
কলনাগ ফণা উৎক্ষিপ্ত
বার বার হলাহল মাখছি,
তবু তো ক্লান্তিহীন যতেœ
তবু তো ক্লান্তিহীন যতেœ
প্রণের পিপাসাটুকু স্বপ্নে
প্রতিটি দন্ডে মেলে রাখছি
আমাদের কিবা আছে 
কী হবে যে অপচয়
যার সর্বস্বের পণ
কিসে তার পরাজয়
বন্ধুর পথে দিনান্ত যাত্রী
ভূতের বাঘের ভয় 
সে তো আমাদের নয়
হতে পারি পথশ্রমে আরও বিধ্বস্ত
ধিকৃত নয় তবু চিত্ত
আমরা তো সুস্থির লক্ষের যাত্রী 
চলবার আবেগেই তৃপ্ত
আমাদের পথরেখা দুস্তর দূর্গম
সাথে তবু অগনিত সঙ্গী
বেদনার কোটি কোটি অংশী
আমাদের চোখে চোখে লেলিহান অগ্নি
সকল বিরোধ বিধ্বংসী
আমাদের পথের প্রদীপ্ত স্বাক্ষরে 
নূতন অগ্নিশিখা জ্বলবেই
চলবেই চলবেই,
জনতার সংগ্রাম চলবেই 
আমাদের সংগ্রাম চলবেই
আবার আসবে দিন সূর্যিত আলোর

শোনগো তোমরা শোন ।
এমন একটি দেশের কথা 
পাবেনা খুঁজে কোন।
হেথায় মিলেছে পদ্মা-মেঘনা 
বাউল, মারফতি গান
জারি সারি ঢেউ-এ দোলে ফুল
হিন্দু মুসলমান।

এই আমাদের বাংলা। কিংবদন্তি বঙ্গলা নামের দেশ। পদ্মা মেঘনা যমুনা ব্রক্ষপুত্র অববাহিকায় শান্ত, ছায়াসুনিবিড়, কখনো বা প্রকৃতির রুদ্র তান্ডবে বিক্ষুব্দ জনপদ। এখানে বছর জুড়ে মায়ের আঁচলের মত ছায়া দিয়ে রাখে ৬ টি ঋতু। জারি-সারি-ভাটিয়ালি মারফতি গানে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে গান গায় হিন্দু মুসলমান। এখানে ভূমিপুত্রগণ রোদ-বৃষ্টিতে ঝলসে মাঠে বোনে ধান। সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ-এ ফেলে জাল।
এই দেশের প্রতিটি ঘরের দাওয়া কখনো ভরে থাকে সেদ্ধ ধানের গন্ধে, কখনো বা আকালের গ্রাসে। তবু হার মানে না, হার মানতে জানে না ওরা। সুখ-দুঃখে জড়িয়ে থেকেও তাই এ দেশে আসে উৎসব। বুঝি নবান্ন উৎসবে সবাই গলা ছেড়ে ধরে।
তুমি আমার নক্সী কাঁথার মাঠ
তমি আমার প্রথম কাব্য, প্রথম প্রেমের পাঠ।

তুমি আমার ঈশান কোনের মেঘ
তমি আমার গোপন প্রেমের আকন্ঠ উদ্বেগ।

তমি আমার দুচোখ ভরা জল
তুমি আমার নিষিদ্ধ গান হৃদয় টলোমল।

তুমি আমার ঝরা বকুল ফুল
তুমি আমার যুদ্ধে যাওয়া ভায়ের রেশমি চুল।

তুমি আমার বীণার ছিন্ন তার
তুমি আমার দঃখি মায়ের বিপন্ন সংসার।

তুমি আমার মুিক্তসেনার গান
তুমি আমার মাঠের বুকে স্বর্ণালি অঘ্রাণ।

তুমি আমার মুক্ত স্বাধীন দেশ
তুমি আমার স্বর্গপরী আজন্ম উদ্দেশ।

নদীবিধৌত আমাদের এই বাঙ্গলাকে কবি বলেছেন ধন-ধান্য পুষ্প ভরা । বাঙ্গলার রুপ, ঐশ্বর্য, প্রাচুর্যের খ্যাতি তাই ছড়িয়ে পরেছিল বিশ্বময়। ফলে বারবার এসেছে আঘাত।
হুন, আর্য, দ্রাবিড়, মোঙ্গঁল, পর্তুগীজ, ইংরেজদের সাথে লড়ায়ের ইতিহাসে জ্বলে উঠেছে অসংখ্য বীর বাঙ্গালীর নাম। তাই আমরা গর্ব করে বলি আমরা তিতুমীর, বারো ভুঁইয়ার বংশধর, সিরাজউদ্দৌলার রক্ত, সুর্যসেন, প্রিতিলতার ভাই।
দুশো বছরের ইংরেজ শাসন দমাতে পারেনি আমাদের। অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষার পর এলো ১৯৪৭ সাল। হাজার বছরের সমপ্রিতির ইতিহাস গড়া এই জনপদ অবশেষে ভাগ হলো ধর্মের নামে। শান্তিপ্রিয়, ধর্মভিরু বাঙ্গালীরা ভাবলাম এই বুঝি স্বাধীনতা। এই বুঝি মুক্ত উড়ার আকাশ।
কিন্তু ভুল ভাঙ্গঁতে দেরী হয়নি। এক দৈত্যের কারাগার থেকে আরেক পিশাচেরর পাল্লায়। আঘাত এলো ভাষায়। বঙ্গোপসাগরের ভয়াল ঢেউ-এর মত গর্জে উঠল বাঙ্গলা,
রাষ্ট্র ভাষা বাংলা চাই 
চললো গুলি, রাজপথ রক্তে ভিজিয়ি দিলো সালাম, রফিক, বরকত।
কে ভাবতে পেরেছিল সেই আমাদের আসল সংগ্রামের শুরু। তারপর ঊনসত্তর, ৬ দফা, এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। ধুর্ত, শোসক, পিশাচেরা ফন্দি করে। অবশেষে একদিন, কালো রাতের অন্ধকারে নিরস্ত্র বাঙ্গালীর উপর ঝাঁপ দিলো ধুর্ত হায়না। ২৫ শে মার্চ, ভয়াল রাত।
অন্ধকার তো ঘোচেনা অন্ধকারে 
সূর্যপ্রখর দীপ্তির আয়োজন
তাইতো মশাল জ্বেলেছি প্রণের স্বরে 
স্লোগানে দীর্ণ কারফিউ তর্জন।

ব্যর্থ সকল সন্ত্রাসী গর্জন
কাাঁপায় না আর জনতার চিত্তকে
করবেই জানি শোষিতেরা অর্জন
মুক্তিপ্রতিম রক্তিম বৃত্তকে।

আস্ফালকের পলাতক পদরেখা 
বুকের শোণিতে করেছি সচিহ্নিত
কোথায় পালাবে মুছে সে রক্ত-লেখা
এবার যে তার বিনাশ সুনিশ্চিত।
শুরু হলো যুদ্ধ। কন্ঠে কন্ঠে দৃপ্ত শপথ- রক্ত যখন দিয়েছি রক্ত আরও দেবো। তবু এই দেশকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাল্লাহ। লেফট রাইট লেফট, লেফট রাইট লেফট। একদিকে বাঙ্গালীর জীবনপণ সাহস অন্যদিকে শোসক হায়নাদের সুসজ্জিত স্বসস্ত্র উল্লাস।
বাংলাদেশ আগুন লাগা শহর আর লক্ষ গ্রাম 
বাংলাদেশ শহীদ হল রক্তে লাল লও সালাম
বাংলঅদেশ বুলেট নিয়ে হুমড়ি খায় দীপ্ত হয় 
বাংলাদেশ কর্ফ্যুঘেরা লক্ষ কোটি কন্ঠময়
বাংলাদেশ রক্তে ভেজা মৌন এক অন্ধকার 
বাংলাদেশ শপথ নেয় তিক্ষè এক স্বাধীনতার
বাংলাদেশ বিশাল এক অগ্নিব্যুহ প্রজ্জ্বলিত
বাংলাদেশ মিছিল কাঁপা শ্লোগান দেয়া আন্দোলিত
বাংলাদেশ আগুন লাগা শহর আর লক্ষ গ্রাম 
বাংলাদেশ দুর্গময় ক্রুদ্ধ এক ভিয়েতনাম।

১৬ই ডিসেম্বর ১৯৭১। শীতের রৌদ্র সকালে স্বাধীন দেশে উড়লো তবে স্বাধীন পতাকা। সবুজ অরন্য প্রান্তর, শস্যের মাঠে উঠলো যেন রক্তে লাল সূর্য। বাঙ্গাঁলীর চোখে অশ্র“, মনে উল্লাস।
তিরিশ লক্ষ শহীদের রক্ত, হাজার হাজার মা-বোনের সভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত এই পতাকা সমুন্বিত রাখার শপথে বলিয়ান সবাই।
একে একে দিন যায়, মাস আর বছর। পুরোন শকুনেরা আবার খামচে ধরে স্বদেশের পতাকা। আসে ৭৫, ৮৫, ৯০। গনতন্ত্রের নাম ভাঙ্গিঁয়ে ছদ্দবেশে খুঁটি গাঁড়ে পিশাচতন্ত্র। 
শহীদ হন কর্নেল তাহের, সিরাজ শিকদার, নুর হোসেন, ডা. মিলন। রাস্তায় ধর্ষিত হয়ে পরে থাকে ইয়াসমিন পুর্নিমা।
শহিদের রক্তে কেনা পতাকা শোভা পায় শকুনের ঘরে। ৭ বার দুর্নীতিতে বিশ্বচ্যাম্পিয়ান। জঙ্গীবাদের আমূল আস্তানা তখন বাংলাদেশ। শকুনেরা ছুরি কাচি হাতে গোগ্রাসে গিলতে ব্যাস্ত মানচিত্র।
গত স্বাধীনতার ৪০ বছরে শাসক নামধারী শোসক বদল হয়েছে বারবার। কিন্তু তারা প্রত্যেকেই তাদের লোভ আর ক্ষমতার থাবায় ক্ষত বিক্ষত করেছে দখিনী বাংলাকে, তথাপি-
হে তরুন হে যুবক কলিমুদ্দিন শেখ মুই, অমপুরে আবাস হামার 
হে শ্রমিক হে কৃষক বিশ্বাস কি হয় বাহে এই মুই যুদ্ধে গেছিলাম
মেনো না হতাশা মুইতো একেলা নও অনেকেই আছিল সাথোত 
আবার আসবে দিন সূর্যিত আলোর লাঙ্গল ফেলিয়া বাহে এই হাতে অস্ত্র নিছিলাম।
আবার আসবে দিন সমূহ উজ্জল সময় দিয়াছে ডাক হামার কি সাধ্য বসি থাকিবো ঘরোত
মানুষ জাগবে ফের জাগবে মানুষ। ঘরের বাহির হয়া ঝাপ দেই অকুল গাঙ্গেতে
নিদারুণ দুঃসময়ে আমাদের অধিবাস আজ চোখে মোর এক ছবি সামনের তীরেতে নতুন 
নির্দয় সূর্যের তাপে ফেটে যায় মাটি ও মনন জীবনতো আছে এক, সোনার খাচায় নয়,
কামরুলী জানোয়ার দাঁতে ঘসে দাঁত ক্যামন স্বাধীন এক নতুন জীবন, 
জয়নুলে কাকেরা করে কা-কা স্বদেশ ভাগাড়ে অকুল বানের তোড়ে ভাসি যুদ্ধে চলি যাই
কাক ও কুকুর ছাড়া আর প্রণী যেন নেই হামার দ্যাশের লাগি কলিম কিষাণ মই যুদ্ধে চলি যাই
হতাশা ও ধোঁয়া ছাড়া কোন দৃশ্যকল্প নেই মরণের ভয়ডর ফেলি মুই যুদ্ধে চলি যাই
দুমুঠা ভাতের লাগি যুদ্ধে চলি যাই 
মানুষ নিরন্ন আজ মানুষের আস্থা নেই অন্নদাত্রী মৃত্তিকার প্রতি। প্রাণের ভিতরে জোশ যুদ্ধে চলি যাই
চারিদিকে অন্ধকার ছিদ্রাহীন শেষহীন অদ্ভুত আঁধার দারুণ মিছিল আসে মানুষের মুক্তির মিছিল
বিলাপ ও আর্তনাদ ছাড়া কোন উচ্চারণ নেই আসে চাষা আসে চাষী অস্ত্র তুলে নেয়
আপোষ ও বেঈমানী ছাড়া কোন রাজনীতি নেই আসে ছাত্র আসে যুবা অগ্নি জেলে দেয়
উৎকোচ ও দূনীতি ছাড়া কোন কারবার নেই আসে মাতা আসে বধু দাহ তেলে দেয়।
সামরিক উর্দি ছাড়া আর কোন ভগবান নেই। মানুয়ের উদ্বোধনে অবিশ্বাসী হয়ো না মানুয়
মানুষ ঘুমিয়ে সব বেঘোরে অঘোরে যেন অনন্ত শযনে। মানুষের উজ্জীবনে আস্থাহীন হয়ো না সারথী
তথাপি হে সাথী আবার আসবে সেই সময়ের বাঁক
হে কৃষক ক্ষেতের মজুর আবার আসবে সেই জাগরনী ধবল প্রহর 
ছাত্র বন্ধু ইতিহাসের প্রগতি রুদ্ধ করে শকিাত আছে কার 
শ্রমজীবী মৌলিক মানুষ এানুষ জাগবে ঠিক 
হে কামার হে কেেমার জেলে তাঁতী মাঝি-মাল্লা কুলি পুনরায় জাগবে মানুষ।
একবার প্রাণ খুলে কান পেতে ধরো
একবার অন্তর্দৃষ্টি মেলে ধরে দ্যাখো 
মানুষ কি জাগে নাই অন্ধকার তাড়ানিয়া সর্যের মতোন
মানুষ কি জাগে নাই তুফানের প্রচন্ড গতিতে
জীবন কি জাগে নাই মরণের আবরন ভেঙে
জীবন কি জাগে নাই বারুদের বিস্ফোরন ঠেলে?
বাহান্নোয় একদিন জেগেছিল সব। 
আবার আসেনি কি মহাজাগরণ সুমহান একাত্তরে
বেহেস্ত হতে নয় 
মানুষের মাঝ থেকে
মানবিক কন্ঠ কি হে গর্জে উঠে নাই
‘এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ 

বাঙ্গালী সংগ্রামী জাতী। কোন দূর্যোগ বাঙ্গালীর মাথা নোয়াতে পারেনি। তাই যতদিন এই দেশে দূরনীতি সাম্রাজ্যবাদ এবং যুদ্ধাপরাধী থাকবে ততদিন প্রগতিশীল মুক্তিকামী দেশপ্রেমিক মানুষের সঙগ্রাম চলবেই। 
জনতার সংগ্রাম চলবেই,
আমাদের সংগ্রাম চলবেই 
জনতার সংগ্রাম চলবেই 
মৃত্যুর ভর্ৎসনা আমরা তো অহরহ শুনছি
আধাঁর গোরের ক্ষেতে তবু তো ভোরের বীজ বুনছি
আমাদের বিক্ষত চিত্তে
জীবনে জীবনে অস্তিত্বে 
কলনাগ ফণা উৎক্ষিপ্ত
বার বার হলাহল মাখছি,
তবু তো ক্লান্তিহীন যতেœ
তবু তো ক্লান্তিহীন যতেœ
প্রণের পিপাসাটুকু স্বপ্নে
প্রতিটি দন্ডে মেলে রাখছি
আমাদের কিবা আছে 
কী হবে যে অপচয়
যার সর্বস্বের পণ
কিসে তার পরাজয়
বন্ধুর পথে দিনান্ত যাত্রী
ভূতের বাঘের ভয় 
সে তো আমাদের নয়
হতে পারি পথশ্রমে আরও বিধ্বস্ত
ধিকৃত নয় তবু চিত্ত
আমরা তো সুস্থির লক্ষের যাত্রী 
চলবার আবেগেই তৃপ্ত
আমাদের পথরেখা দুস্তর দূর্গম
সাথে তবু অগনিত সঙ্গী
বেদনার কোটি কোটি অংশী
আমাদের চোখে চোখে লেলিহান অগ্নি
সকল বিরোধ বিধ্বংসী
আমাদের পথের প্রদীপ্ত স্বাক্ষরে 
নূতন অগ্নিশিখা জ্বলবেই
চলবেই চলবেই,
জনতার সংগ্রাম চলবেই 
আমাদের সংগ্রাম চলবেই
আবার আসবে দিন সূর্যিত আলোর

শোনগো তোমরা শোন ।
এমন একটি দেশের কথা 
পাবেনা খুঁজে কোন।
হেথায় মিলেছে পদ্মা-মেঘনা 
বাউল, মারফতি গান
জারি সারি ঢেউ-এ দোলে ফুল
হিন্দু মুসলমান।

এই আমাদের বাংলা। কিংবদন্তি বঙ্গলা নামের দেশ। পদ্মা মেঘনা যমুনা ব্রক্ষপুত্র অববাহিকায় শান্ত, ছায়াসুনিবিড়, কখনো বা প্রকৃতির রুদ্র তান্ডবে বিক্ষুব্দ জনপদ। এখানে বছর জুড়ে মায়ের আঁচলের মত ছায়া দিয়ে রাখে ৬ টি ঋতু। জারি-সারি-ভাটিয়ালি মারফতি গানে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে গান গায় হিন্দু মুসলমান। এখানে ভূমিপুত্রগণ রোদ-বৃষ্টিতে ঝলসে মাঠে বোনে ধান। সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ-এ ফেলে জাল।
এই দেশের প্রতিটি ঘরের দাওয়া কখনো ভরে থাকে সেদ্ধ ধানের গন্ধে, কখনো বা আকালের গ্রাসে। তবু হার মানে না, হার মানতে জানে না ওরা। সুখ-দুঃখে জড়িয়ে থেকেও তাই এ দেশে আসে উৎসব। বুঝি নবান্ন উৎসবে সবাই গলা ছেড়ে ধরে।
তুমি আমার নক্সী কাঁথার মাঠ
তমি আমার প্রথম কাব্য, প্রথম প্রেমের পাঠ।

তুমি আমার ঈশান কোনের মেঘ
তমি আমার গোপন প্রেমের আকন্ঠ উদ্বেগ।

তমি আমার দুচোখ ভরা জল
তুমি আমার নিষিদ্ধ গান হৃদয় টলোমল।

তুমি আমার ঝরা বকুল ফুল
তুমি আমার যুদ্ধে যাওয়া ভায়ের রেশমি চুল।

তুমি আমার বীণার ছিন্ন তার
তুমি আমার দঃখি মায়ের বিপন্ন সংসার।

তুমি আমার মুিক্তসেনার গান
তুমি আমার মাঠের বুকে স্বর্ণালি অঘ্রাণ।

তুমি আমার মুক্ত স্বাধীন দেশ
তুমি আমার স্বর্গপরী আজন্ম উদ্দেশ।

নদীবিধৌত আমাদের এই বাঙ্গলাকে কবি বলেছেন ধন-ধান্য পুষ্প ভরা । বাঙ্গলার রুপ, ঐশ্বর্য, প্রাচুর্যের খ্যাতি তাই ছড়িয়ে পরেছিল বিশ্বময়। ফলে বারবার এসেছে আঘাত।
হুন, আর্য, দ্রাবিড়, মোঙ্গঁল, পর্তুগীজ, ইংরেজদের সাথে লড়ায়ের ইতিহাসে জ্বলে উঠেছে অসংখ্য বীর বাঙ্গালীর নাম। তাই আমরা গর্ব করে বলি আমরা তিতুমীর, বারো ভুঁইয়ার বংশধর, সিরাজউদ্দৌলার রক্ত, সুর্যসেন, প্রিতিলতার ভাই।
দুশো বছরের ইংরেজ শাসন দমাতে পারেনি আমাদের। অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষার পর এলো ১৯৪৭ সাল। হাজার বছরের সমপ্রিতির ইতিহাস গড়া এই জনপদ অবশেষে ভাগ হলো ধর্মের নামে। শান্তিপ্রিয়, ধর্মভিরু বাঙ্গালীরা ভাবলাম এই বুঝি স্বাধীনতা। এই বুঝি মুক্ত উড়ার আকাশ।
কিন্তু ভুল ভাঙ্গঁতে দেরী হয়নি। এক দৈত্যের কারাগার থেকে আরেক পিশাচেরর পাল্লায়। আঘাত এলো ভাষায়। বঙ্গোপসাগরের ভয়াল ঢেউ-এর মত গর্জে উঠল বাঙ্গলা,
রাষ্ট্র ভাষা বাংলা চাই 
চললো গুলি, রাজপথ রক্তে ভিজিয়ি দিলো সালাম, রফিক, বরকত।
কে ভাবতে পেরেছিল সেই আমাদের আসল সংগ্রামের শুরু। তারপর ঊনসত্তর, ৬ দফা, এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। ধুর্ত, শোসক, পিশাচেরা ফন্দি করে। অবশেষে একদিন, কালো রাতের অন্ধকারে নিরস্ত্র বাঙ্গালীর উপর ঝাঁপ দিলো ধুর্ত হায়না। ২৫ শে মার্চ, ভয়াল রাত।
অন্ধকার তো ঘোচেনা অন্ধকারে 
সূর্যপ্রখর দীপ্তির আয়োজন
তাইতো মশাল জ্বেলেছি প্রণের স্বরে 
স্লোগানে দীর্ণ কারফিউ তর্জন।

ব্যর্থ সকল সন্ত্রাসী গর্জন
কাাঁপায় না আর জনতার চিত্তকে
করবেই জানি শোষিতেরা অর্জন
মুক্তিপ্রতিম রক্তিম বৃত্তকে।

আস্ফালকের পলাতক পদরেখা 
বুকের শোণিতে করেছি সচিহ্নিত
কোথায় পালাবে মুছে সে রক্ত-লেখা
এবার যে তার বিনাশ সুনিশ্চিত।
শুরু হলো যুদ্ধ। কন্ঠে কন্ঠে দৃপ্ত শপথ- রক্ত যখন দিয়েছি রক্ত আরও দেবো। তবু এই দেশকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাল্লাহ। লেফট রাইট লেফট, লেফট রাইট লেফট। একদিকে বাঙ্গালীর জীবনপণ সাহস অন্যদিকে শোসক হায়নাদের সুসজ্জিত স্বসস্ত্র উল্লাস।
বাংলাদেশ আগুন লাগা শহর আর লক্ষ গ্রাম 
বাংলাদেশ শহীদ হল রক্তে লাল লও সালাম
বাংলঅদেশ বুলেট নিয়ে হুমড়ি খায় দীপ্ত হয় 
বাংলাদেশ কর্ফ্যুঘেরা লক্ষ কোটি কন্ঠময়
বাংলাদেশ রক্তে ভেজা মৌন এক অন্ধকার 
বাংলাদেশ শপথ নেয় তিক্ষè এক স্বাধীনতার
বাংলাদেশ বিশাল এক অগ্নিব্যুহ প্রজ্জ্বলিত
বাংলাদেশ মিছিল কাঁপা শ্লোগান দেয়া আন্দোলিত
বাংলাদেশ আগুন লাগা শহর আর লক্ষ গ্রাম 
বাংলাদেশ দুর্গময় ক্রুদ্ধ এক ভিয়েতনাম।

১৬ই ডিসেম্বর ১৯৭১। শীতের রৌদ্র সকালে স্বাধীন দেশে উড়লো তবে স্বাধীন পতাকা। সবুজ অরন্য প্রান্তর, শস্যের মাঠে উঠলো যেন রক্তে লাল সূর্য। বাঙ্গাঁলীর চোখে অশ্র“, মনে উল্লাস।
তিরিশ লক্ষ শহীদের রক্ত, হাজার হাজার মা-বোনের সভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত এই পতাকা সমুন্বিত রাখার শপথে বলিয়ান সবাই।
একে একে দিন যায়, মাস আর বছর। পুরোন শকুনেরা আবার খামচে ধরে স্বদেশের পতাকা। আসে ৭৫, ৮৫, ৯০। গনতন্ত্রের নাম ভাঙ্গিঁয়ে ছদ্দবেশে খুঁটি গাঁড়ে পিশাচতন্ত্র। 
শহীদ হন কর্নেল তাহের, সিরাজ শিকদার, নুর হোসেন, ডা. মিলন। রাস্তায় ধর্ষিত হয়ে পরে থাকে ইয়াসমিন পুর্নিমা।
শহিদের রক্তে কেনা পতাকা শোভা পায় শকুনের ঘরে। ৭ বার দুর্নীতিতে বিশ্বচ্যাম্পিয়ান। জঙ্গীবাদের আমূল আস্তানা তখন বাংলাদেশ। শকুনেরা ছুরি কাচি হাতে গোগ্রাসে গিলতে ব্যাস্ত মানচিত্র।
গত স্বাধীনতার ৪০ বছরে শাসক নামধারী শোসক বদল হয়েছে বারবার। কিন্তু তারা প্রত্যেকেই তাদের লোভ আর ক্ষমতার থাবায় ক্ষত বিক্ষত করেছে দখিনী বাংলাকে, তথাপি-
হে তরুন হে যুবক কলিমুদ্দিন শেখ মুই, অমপুরে আবাস হামার 
হে শ্রমিক হে কৃষক বিশ্বাস কি হয় বাহে এই মুই যুদ্ধে গেছিলাম
মেনো না হতাশা মুইতো একেলা নও অনেকেই আছিল সাথোত 
আবার আসবে দিন সূর্যিত আলোর লাঙ্গল ফেলিয়া বাহে এই হাতে অস্ত্র নিছিলাম।
আবার আসবে দিন সমূহ উজ্জল সময় দিয়াছে ডাক হামার কি সাধ্য বসি থাকিবো ঘরোত
মানুষ জাগবে ফের জাগবে মানুষ। ঘরের বাহির হয়া ঝাপ দেই অকুল গাঙ্গেতে
নিদারুণ দুঃসময়ে আমাদের অধিবাস আজ চোখে মোর এক ছবি সামনের তীরেতে নতুন 
নির্দয় সূর্যের তাপে ফেটে যায় মাটি ও মনন জীবনতো আছে এক, সোনার খাচায় নয়,
কামরুলী জানোয়ার দাঁতে ঘসে দাঁত ক্যামন স্বাধীন এক নতুন জীবন, 
জয়নুলে কাকেরা করে কা-কা স্বদেশ ভাগাড়ে অকুল বানের তোড়ে ভাসি যুদ্ধে চলি যাই
কাক ও কুকুর ছাড়া আর প্রণী যেন নেই হামার দ্যাশের লাগি কলিম কিষাণ মই যুদ্ধে চলি যাই
হতাশা ও ধোঁয়া ছাড়া কোন দৃশ্যকল্প নেই মরণের ভয়ডর ফেলি মুই যুদ্ধে চলি যাই
দুমুঠা ভাতের লাগি যুদ্ধে চলি যাই 
মানুষ নিরন্ন আজ মানুষের আস্থা নেই অন্নদাত্রী মৃত্তিকার প্রতি। প্রাণের ভিতরে জোশ যুদ্ধে চলি যাই
চারিদিকে অন্ধকার ছিদ্রাহীন শেষহীন অদ্ভুত আঁধার দারুণ মিছিল আসে মানুষের মুক্তির মিছিল
বিলাপ ও আর্তনাদ ছাড়া কোন উচ্চারণ নেই আসে চাষা আসে চাষী অস্ত্র তুলে নেয়
আপোষ ও বেঈমানী ছাড়া কোন রাজনীতি নেই আসে ছাত্র আসে যুবা অগ্নি জেলে দেয়
উৎকোচ ও দূনীতি ছাড়া কোন কারবার নেই আসে মাতা আসে বধু দাহ তেলে দেয়।
সামরিক উর্দি ছাড়া আর কোন ভগবান নেই। মানুয়ের উদ্বোধনে অবিশ্বাসী হয়ো না মানুয়
মানুষ ঘুমিয়ে সব বেঘোরে অঘোরে যেন অনন্ত শযনে। মানুষের উজ্জীবনে আস্থাহীন হয়ো না সারথী
তথাপি হে সাথী আবার আসবে সেই সময়ের বাঁক
হে কৃষক ক্ষেতের মজুর আবার আসবে সেই জাগরনী ধবল প্রহর 
ছাত্র বন্ধু ইতিহাসের প্রগতি রুদ্ধ করে শকিাত আছে কার 
শ্রমজীবী মৌলিক মানুষ এানুষ জাগবে ঠিক 
হে কামার হে কেেমার জেলে তাঁতী মাঝি-মাল্লা কুলি পুনরায় জাগবে মানুষ।
একবার প্রাণ খুলে কান পেতে ধরো
একবার অন্তর্দৃষ্টি মেলে ধরে দ্যাখো 
মানুষ কি জাগে নাই অন্ধকার তাড়ানিয়া সর্যের মতোন
মানুষ কি জাগে নাই তুফানের প্রচন্ড গতিতে
জীবন কি জাগে নাই মরণের আবরন ভেঙে
জীবন কি জাগে নাই বারুদের বিস্ফোরন ঠেলে?
বাহান্নোয় একদিন জেগেছিল সব। 
আবার আসেনি কি মহাজাগরণ সুমহান একাত্তরে
বেহেস্ত হতে নয় 
মানুষের মাঝ থেকে
মানবিক কন্ঠ কি হে গর্জে উঠে নাই
‘এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ 

বাঙ্গালী সংগ্রামী জাতী। কোন দূর্যোগ বাঙ্গালীর মাথা নোয়াতে পারেনি। তাই যতদিন এই দেশে দূরনীতি সাম্রাজ্যবাদ এবং যুদ্ধাপরাধী থাকবে ততদিন প্রগতিশীল মুক্তিকামী দেশপ্রেমিক মানুষের সঙগ্রাম চলবেই। 
জনতার সংগ্রাম চলবেই,
আমাদের সংগ্রাম চলবেই 
জনতার সংগ্রাম চলবেই 
মৃত্যুর ভর্ৎসনা আমরা তো অহরহ শুনছি
আধাঁর গোরের ক্ষেতে তবু তো ভোরের বীজ বুনছি
আমাদের বিক্ষত চিত্তে
জীবনে জীবনে অস্তিত্বে 
কলনাগ ফণা উৎক্ষিপ্ত
বার বার হলাহল মাখছি,
তবু তো ক্লান্তিহীন যতেœ
তবু তো ক্লান্তিহীন যতেœ
প্রণের পিপাসাটুকু স্বপ্নে
প্রতিটি দন্ডে মেলে রাখছি
আমাদের কিবা আছে 
কী হবে যে অপচয়
যার সর্বস্বের পণ
কিসে তার পরাজয়
বন্ধুর পথে দিনান্ত যাত্রী
ভূতের বাঘের ভয় 
সে তো আমাদের নয়
হতে পারি পথশ্রমে আরও বিধ্বস্ত
ধিকৃত নয় তবু চিত্ত
আমরা তো সুস্থির লক্ষের যাত্রী 
চলবার আবেগেই তৃপ্ত
আমাদের পথরেখা দুস্তর দূর্গম
সাথে তবু অগনিত সঙ্গী
বেদনার কোটি কোটি অংশী
আমাদের চোখে চোখে লেলিহান অগ্নি
সকল বিরোধ বিধ্বংসী
আমাদের পথের প্রদীপ্ত স্বাক্ষরে 
নূতন অগ্নিশিখা জ্বলবেই
চলবেই চলবেই,
জনতার সংগ্রাম চলবেই 
আমাদের সংগ্রাম চলবেই

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

পৃষ্ঠাসমূহ